টুং টাং ডং শব্দে পটিয়ার কামাররা ব্যস্ততম সময় পার করছেন

0

সুজিত দত্ত, পটিয়া প্রতিনিধিঃ চট্রগ্রামের ঐতিহ্যেরবাহী পটিয়া পৌর এলাকায় নতুন থানার হাটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে, কামারদের শিল্পের দোকান। পবিত্র ঈদ উল আযহা ও হিন্দু সস্পাদায়ে মনসা পুজাকে সামনে রেখে দা, চুরি, বটি ও ঐশীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সবই শান ও তৈরি কাজেই দিন রাত এমনকি গভীর রাত পর্য্যান্ত মহাব্যাস্ততম সময় পার করছে তারাই । তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় কামারীদের কর্মকার্ন্ডে প্রায় অধিকাংশ কমে গেছে বলে জানান কামারীরা ।

পটিয়া পৌরসভার প্যানাল মেয়র, কাউন্সিল ও পৌর আওয়ামী লীগ ৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি মুহাম্মদ আবু ছৈয়দ ও সাধারণ সস্পাদক মোঃ মাহাবুল আলম, ৬ নং ওয়ার্ড পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সস্পাদক মোঃ হারুনুর রশীদ বলেন, আর মাত্ত কয়েক দিন পর কোরবানির ঈদ এর পর হিন্দুদের মনসা পূজার পাঠা বলি। এ ঈদ ও পূজাকে সামনে রেখে মহাব্যস্ততম তারা। শুধু ব্যস্তই নয়, দিন- রাত এমনকি টুং টাং ডং শব্দের মুখরিত হয়ে উঠেছে পটিয়া পৌর এলাকার নতুন থানার হাট বাজার। ভারী যন্ত্র দিয়ে হাতুড়ি পিটিয়ে আগুনে পুড়ে টকবগে লাল লোহার শিখা, ঝলমলে লোহা বানানো সবই যন্ত্রপাতি। কেউ শান দিচ্ছে, কেউ লৌহা পিটাচ্ছে কেউ কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছেন। বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন লোকজন রয়েছে।

পৌর কাউন্সিলর ও আ”লীগ নেতা মো গোফরান রানা ও কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, চলছে বিক্রির ধুম, অনেকেই নানান সামগ্রিক তৈরী ও শান দিচ্ছে। তারা প্রতিবছর ঈদ ও মনসা পুজার জন্য অপেক্ষায় থাকেন, কামার শিল্পীরা। এক মাস আগে থেকেই ধুম বেচাকেনা ও তৈরি কাজেই ব্যস্ত তারা। লোকজন ছুটছেন কামারীর দোকানে।

এ বছর করোনার সংকটের প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে। এখন আগের বছরের ন্যায় নেই কোনো আমেজ। অন্যান্য বছরের তুলনায় কোরবানির সংখ্যাও কম। যার প্রক্ষিতে সবই মিলিয়ে তাদের কাজও দুই তৃতীয়াংশ কমেছে। পটিয়ায় ১৭টি ইউনিয়ন সহ ১টি পৌরসভায় প্রায় ১০০ টি কামারের দোকান রয়েছে।শোনা যাচ্ছে হাঁতুড়ি পেটানোর খট খট আর হাঁপরের ফুস ফুস শব্দও।

কামার ব্যবসায়ীদের মধ্যে বসন্ত নন্দী, তপন চৌধুরী, আশীষ চৌধুরী , নেপাল নন্দী, ও কমল সেন বলছেন, ১০ রকম বঁটি, ৮ রকম দা, ২০ ধরনের ছুরি, ১২ ধরনের জবাই ছুরি ছোট বড় (খরগ ) ঐশীসহ নানান ধরনের দা ছুরি তৈরিতে ব্যস্ত তারা। এ ছাড়া শান বা ধার দেয়াসহ এক ধরনের লোহার স্টিক ও বিক্রি, বঁটি ৩” শ থেকে ৮” শ গরু জবাইয়ের ছুরি ৪” শ’ থেকে ১৮শ’, অন্যান্য ছুরি ৩” শ থেকে ৯” শ টাকা থেকে ৫ হাজারে বিক্রি হচ্ছে।

গত বছরের তুলনায় এই বছর করোনায় মানুষের আয় রোজগার কমে গেছে, প্রায় অর্ধেক মানুষ এই বছর কোরবানি করতে পাবেন কিনা আশংকা রয়েছে। যার কারনে তারা দা, চুরি, বটি, সহ বিভিন্ন রকমের সব কিছুই শান, তৈরীর জন্য তেমন আসছে না কোরবানিরা। তাই আমাদের বেচাকেনা অনেকাংশেই কমে গেছে। তাই আমাদের এ বছরে আর্থিক বেকায়দায় পড়তে হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.