সাগরে বোট ডুবির ৮দিনেও সন্ধান মেলেনি ৪ জেলের- পরিবারে শোকের মাতম
বাঁশখালী প্রতিনিধিঃ বঙ্গোপসাগরের বাঁশখালী-কুতুবদিয়া চ্যানেলের আদুরে কর্ডজাল ফিশিং ট্রলারের ধাক্কায় বাঁশখালীর ফিশিং বোট ডুবির ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে ২৭ জন জেলে মাঝিমাল্লা ফিরে এলেও এখনো ৪ জেলের কোনরুপ হদিস মেলেনি।
অপরদিকে এ ফিশিং বোটের আরো কয়জন অন্য ফিশিং বোটে রয়েছে ১৪ অক্টোবর সাগরে মাছ ধরা বন্ধ হলে তখন ফিরবে সে প্রতীক্ষায় আছে নিখোঁজ জেলের পরিবার । তবে তলিয়ে যাওয়া ফিশিং ট্রলারের যৌথ মালিক মো: ছগীর কোম্পানি এবং মো: আজিজ কোম্পানি নিজেরাও অসুস্থ। নিখোঁজ জেলে ও মাঝিমাল্লা পরিবার অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
এদিকে শীলকুপের মৃত নাছু মিয়ার পুত্র নিখোঁজ কবির আহমদের স্ত্রী রোকসানা আক্তার স্বামীকে ফিরে পাওয়ার জন্য থানায় ডায়রী ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্থানে আবেদন নিবেদন করলেও দীর্ঘ সময়ে তার কোন সন্ধান না পাওয়ায় তার পরিবারে চলছে অন্যরকম এক শোকের মাতম।
জানা যায় গত ৩ অক্টোবর বাঁশখালীর চাম্বল বাংলাবাজার ঘাট থেকে মো: ছগীর কোম্পানি এবং মো: আজিজ কোম্পানির যৌথ মালিকাধীন ফিশিং বোট শানে মদিনা বঙ্গোপসাগরের অদুরে মাছ ধরতে গেলে ৪ অক্টোবর সকালে কর্ডজাল (ফিশিং) এর ধাক্কায় এ ফিশিং বোটটি তলিয়ে যায় ।
এর পর থেকে এ ফিশিং বোট থেকে বিভিন্ন সময়ে ২৭ জন জেলে বাংলা বাজার ঘাট হয়ে কুলে ফিরে আসে। আরো কয়জন জেলে অন্য ফিশিং বোটে উঠাতে তারা ১৪ অক্টোবর সাগরে মাছ ধরা বন্ধ হলে তখন ফিরবে সে প্রতীক্ষায় আছে।
তবে শীলকুপ এলাকার কবির আহমদসহ ২ জন, সরলের ভাদালিয়া এলাকার ১ জন এবং চট্টগ্রামের কাট্রলী এলাকার ১ জনসহ ৪ জেলের কোন সন্ধান এখনো পায়নি বলে বোট মালিক সমিতি ও নিখোঁজের পরিবার সুত্রে জানা যায়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় নিখোঁজ জেলে পরিবারগুলো মো: ছগীর কোম্পানি এবং মো: আজিজ কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করলে তারা আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। তাছাড়া তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন অনেকটা পাগল হয়ে গেছে বলে কয়জন জেলে এ প্রতিনিধিকে জানান। আবার অনেকে মুখ খুলে কিছু বলারও সাহস পাচ্ছে না পরে কোনরুপ সহযোগিতা পাবেনা এ ভয়ে ।
পশ্চিম চাম্বল বোট মালিক সমিতির সভাপতি হেফাজেতুল ইসলাম বলেন, আগামী ১৪ অক্টোবর সব ফিশিং বোট যখন কুলে ফিরে আসবে তখন নিশ্চিত হওয়া যাবে তারা বেঁচে আছে না মারা গেছে। তাই সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে । আর শীলকুপের কবিরের পরিবার ধর্মীয় কার্যাদি করার জন্য কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান ।
বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের হাতে ও ফিশিং বোট ডুবির ঘটনায় প্রতিবছর বাঁশখালীর জেলেদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও কয়দিন সরব থাকার পর আর কোন হদিস থাকেনা । অথচ পর্যায়ক্রমে ৩১ জেলে, ১৪ জেলে, ১১ জেলে হত্যার মত ঘটনায় বাঁশখালীর জেলেদের মৃত্যুর পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসলেও আবারো নীরব হয়ে যায় ।
ফলে বঙ্গোপসাগর ভিত্তিক জলদস্যুদের তান্ডবে বার বার প্রাণ হারায় এ এলাকার জেলেরা । এবারও তার ব্যক্তিক্রম নয় । দীর্ঘ সময়ও কোন ফিশিং বোটের ধাক্কায় বাঁশখালীর ফিশিং বোটটি তলিয়ে গেল তার সন্ধান পাননি সংশ্লিষ্টরা! আর স্বজন হারা জেলেদের পরিবারের আর্তনাদ চোখে পড়ে না তাদের?
