চসিক নির্বাচনঃ চট্টগ্রাম নগরজুড়ে নজরদারি

0

সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংশ্লিস্ট প্রশাসন। আগে থেকে ভোটের পরদিন (২৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত টানা চারদিন নগরজুড়ে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত পরিপত্র পাঠায় নির্বাচনে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে।

নগর পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, চসিক নির্বাচনে ৯ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হবে। ‘নির্বাচন কমিশন থেকে আমরা একটা গাইডলাইন পাব। পুলিশের কিছু ফোর্স কেন্দ্রভিত্তিক থাকবে। পাশাপাশি আমরা ওয়ার্ড ও থানাভিত্তিক মোবাইল টিম রাখব। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৬টি থানা এলাকায় ৭২৩টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। নগরীতে টহল পুলিশের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে পুলিশ চেকপোস্টসহ বিভিন্ন স্থানে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য কাউন্টার টেরোরিজম, সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।

গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে ১৮ জন ও সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ১৬ জন পুলিশ ও আনসার থাকবে। সাধারণ ভোট কেন্দ্রে অস্ত্রসহ একজন এসআই অথবা এএসাইসহ তিনজন কনস্টেবল থাকবে। পুলিশ ছাড়া অস্ত্রসহ আনসারের একজন প্লাটুন কমান্ডারের (পিসি) নেতৃত্বে একজন এপিসি ও লাঠি হাতে দশজন আনসার সদস্য থাকবে। এদের মধ্যে চারজন মহিলা ও ছয়জন পুরুষ। গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে অস্ত্রসহ একজন এসআই অথবা এ এস আই’র নেতৃত্ব ৬ জন পুলিশ সদস্য থাকবে। সাধারণ কেন্দ্রের মতো আনসার সদস্য থাকবে।

মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স : নগরীর ষোল থানার ৪১টি ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭৩৫টি। এরমধ্যে পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার ভিডিপির সমন্বয়ে ৪১ ওয়ার্ড ৪১টি টিম থাকবে। প্রতি তিন ওয়ার্ড মিলে একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। এর বাইরে প্রতি থানায় একটি করে রিজার্ভ স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি টিম ও প্রতি ওয়ার্ডে দুটি ওয়ার্ড মিলে এক প্লাটুনে দশ জন করে ২৫ প্লাটুন অর্থাৎ ২৫০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রতি প্লাটুনে একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। ভোটের আগের দুইদিন, ভোটের দিন, ভোটের পরের দিনসহ মোট চারদিন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবে।

পুলিশ : নির্বাচনী এলাকা ও ভোট কেন্দ্রে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের প্রধান কাজ। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল সরঞ্জাম ও দলিল দস্তাবেজ আনা নেয়ার সময় নিরাপত্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশ দেখভাল করবে। ইভিএম ও ইভিএম এর কারিগরি সহায়তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। আনসার ভিডিপি পুলিশের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।

বিজিবি /আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে কাজ করবে। নির্বাচনী এলাকার নিকটবর্তী নদী পথে নৌ-পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার সহায়তা চাইলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সহায়তা করবে।

র‌্যাব ও বিজিবির কার্যক্রম অনেকটা একই রকম। র‌্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে কাজ করবে। রিটার্নিং অফিসার সহায়তা কামনা করলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করবে। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবে। এর বাইরে র‌্যাবের দুটি রিজার্ভ টিম নিয়োজিত রাখা হবে। তবে স্থানীয় চাহিদা, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা, ওয়ার্ড বিন্যাস ইত্যাদি বিবেচনায় এবং বাস্তবতার নিরিখে রিটার্নিং অফিসার, সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কমিশনারের সাথে আলোচনা করে মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্সের সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি করতে পারবে।

সিটি নিউজ/ডিটি

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.