আবছার উদ্দিন অলি –
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। তাই কৃষি ক্ষেত্রে যত বেশি উন্নয়ন হবে, দেশ তত বেশি এগিয়ে যাবে। আজ ৩০ অক্টোবর “কৃষক বাঁচাও দেশ বাঁচাও” দিবস। কৃষি ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। গত কয়েক বছরে কৃষি জমির পরিমাণ কমলেও ধান উৎপাদন হয়েছে দ্বিগুণ। কৃষিও কৃষিজাত দ্রব্যের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে কৃষি ক্ষেত্রে শিক্ষিত উদ্যোমী যুবকরা এগিয়ে আসাতে যুগান্তকারী বিপ্লব সাধিত হয়েছে। ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই আর সেক্ষেত্রে তরুন সমাজের সম্পৃক্ততা উৎসাহিত করছে গ্রামে থাকা কৃষকদের। গ্রামে কৃষি কাজ হলেও শহর কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত দিক বিবেচনা করে সাফল্য এসেছে আকাশ ছোঁয়া। ২০১৫ সালে এসে বাংলাদেশে কৃষি ক্ষেত্রে মহাবিপ্লব ঘটেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এ দেশে খাদ্য স্বয়ং সম্পন্নতা ও কৃষি ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তি আবিস্কারে সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা প্রদানে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন। কম জমিতে অধিক ফলন শুধু বাংলাদেশ সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মাটি উর্বর তাই এখানে এখন বার মাস চাষ হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন ফসলের। যাতে করে দেশ লক্ষ্য মাত্রায় দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। পিছনে ফিরে থাকানোর সময় এখন নেই। কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। সব বাধা ডিঙিয়ে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উজ্জ্বল উদাহরণ। শস্যের নতুন জাত উদ্ভাবন করে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সারা বিশ্বকে। আগে যেখানে প্রতি হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন হতো ২ টন এখন হচ্ছে ৪ টনের বেশি। গত পাঁচ বছরে দেশের মানুষকে খাওয়াতে বাংলাদেশ কোনো চাল আমদানি করেনি বরং শ্রীলঙ্কায় চাল রপ্তানি শুরু করেছে। গত বছর বিশ্বে প্রথমবারের মতো জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন দেশের কৃষি গবেষকরা।
হেক্টরপতি ধান উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশে আর মোট ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ। দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে দেশে সার ও কৃষি সামগ্রী সংকটের কারণে দেশে কৃষকেরা আশানুরূপ ফসল ফলাতে পারেনি। কিন্ত বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব প্রধামন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে কৃষি ঋণ ও কৃষি সামগ্রী দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এতে করে দেশে কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার কারণে কৃষকেরা বর্তমানে সুলভমূল্যে সার, বীজ ও কৃষি সামগ্রী পাচ্ছে।
ফলে আমাদের দেশে এখন আর খাদ্য সংকট নেই। এদেশে উৎপাদিত খাদ্যশস্য বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। আগামীতে এ দেশ থেকে রাশিয়ায় আলু রপ্তানি করা হবে। এ ব্যাপারে রাশিয়ার সাথে চুক্তি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে একের পর এক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ উন্নয়নের চাকাকে আরো এগিয়ে নিতে হলে দেশের কৃষকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কৃষিতে অগ্রগতি সাধন করতে হলে একটি জমিতে একাধিক ফসল করার চিন্তা ভাবনা করতে হবে। কোন ফসল উৎপাদন করলে বেশি লাভবান হবে, দেশ স্বাবলম্বী হবে সেটা বিবেচনায় এনে কৃষকদের খাদ্যশস্য উৎপাদন করতে হবে। ফলে এ দেশে খাদ্যশস্যের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে আরো বেশি খাদ্য শস্য রপ্তানি করা যাবে।
কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, আর দেশ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে এদেশের মানুষের সুখ, শান্তি ও স্বপ্ন। খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে চ্যালেঞ্জ চলছে তা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সর্বদা প্রস্তুত। আর সে জন্যই কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহতর রাখার জন্য সরকার নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সোনার বাংলায় সোনালী ধানে গড়ে উঠুক বাংলার সবুজ শ্যামল প্রান্তর।
