সিটিনিউজবিডি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হয়নি। সব দেশেই এ রকম বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। হত্যার ঘটনাগুলোতে যারাই জড়িত থাকুক না কেন- আমরা খুঁজে বের করব।
আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এমন খুনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। আনসারুল্লাহ, জেএমবি বা আইএস যারাই এটা করুক না কেন- তারা যুদ্ধাপরাধী বা জামায়াত-শিবিরের লোক।
আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, প্রকাশ্যে যারা হত্যা করেছে এবং হত্যাচেষ্টায় যারা জড়িত ছিল- তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের শিগগির গ্রেপ্তার করবে। আগের ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
নিরাপত্তার জন্য বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা বসানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সিসি ক্যামেরার দাম বেশি নয়। গতকাল যে দুটি জায়গায় ঘটনা ঘটেছে সেখানে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা বসাতে আমরা সবাইকে বারবার অনুরোধ করেছি।
প্রসঙ্গত, শুদ্ধস্বর প্রকাশনা কর্ণধার আহমেদুর রশীদ টুটুল, কবি তারেক রহিম ও ব্লগার রণদীপম বসুকে গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে লালমাটিয়ার সি ব্লকের পাঁচতলা ভবনের চারতলায় শুদ্দস্বরের কার্যালয়ে থেকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দরজার বাইরে তালা লাগিয়ে দৃর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান স্থানীয়রা।
এরপর বিকেল ৪টার আজিজ সুপার মার্কেটের জাগৃতি প্রকাশনার কার্যালয়ের তালা ভেঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি কর্ণধার ফয়সাল আরেফিন দীপনের রক্তাক্ত শরীর উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ সোমবার বাদ জোহর রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে তাবেলা সিজার; ৩ অক্টোবর রংপুরে কুনিও হোশি; ৫ অক্টোবর ঢাকায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খানকে হত্যা এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে একজন ধর্মযাজক লুক সরকারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ২৩ অক্টোবর পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে হামলায় দুজন নিহত হয়।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে পাঁচজন ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহত ব্লগাররা হলেন- আহমেদ রাজীব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান, অনন্ত বিজয় দাশ ও নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু কোনো ঘটনার বিচারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
