ফাইনালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মেয়েদের হার

0

স্পোর্টস ডেস্ক :: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্ব নিশ্চিত হয়ে গেছে সেমিফাইনাল জিতেই। কিন্তু ফাইনাল জিতে শতভাগ জয়ের রেকর্ডটা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ফাইনালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২ উইকেটে হেরেছে জাহানারা আলমের দল।

প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশের ১০৫ রানের সংগ্রহ ম্যাচের শেষ বলে উতরে যায় আইরিশরা। ৮ উইকেট পড়ে গেলেও আয়ারল্যান্ডের লরা ডিলানি ও লুসি ও’রেইলি মাথা ঠান্ডা রেখে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের ইনিংস মাত্র ১০৫ রানে থেমে যাওয়ার পর যে ধরনের বোলিংয়ের প্রয়োজন ছিল তার খামতি ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের মধ্যে। প্রথম দুই ওভারে জাহানারা আলম ও সালমা খাতুন ২৪ রান দিয়ে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ঠেলে দেন আইরিশদের দিকেই। তারপরেও রুমানা আহমেদ, নাহিদা আকতার, ফাহিমা খাতুন আর খাদিজা-কুল-কুবরাদের দৃঢ়তাপূর্ণ বোলিং বাংলাদেশকে ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু খাদিজার কোটার একটি ওভার বাকি থাকতেও সালমাকে শেষ ওভারের দায়িত্ব দিয়ে ডুবতে হয় বাংলাদেশের। সালমার শেষ ওভারে জয়ের জন প্রয়োজনীয় ৮ রান বেশ প্রত্যয়ের সঙ্গেই তুলে নেন ডিলানি ও ও’রেইলি।

আয়ারল্যান্ডের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জয়ের ভিত্তিটা তৈরি করেছিলেন। সেসেলিয়া জয়েস ৩০ বলে ৩২ রান করে দলকে এগিয়ে দেন অনেক খানিই। জয়েসের কাছ থেকে ব্যাটনটা নিয়ে বাকি কাজটা সারেন লরা ডিলানি ও গ্যাবি লুইস। লরা ঠান্ডা মাথায় খেলেন ২৬ রানের এক ইনিংস। গ্যাবির ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। জয়েসের উদ্বোধনী সঙ্গী ক্লেয়ার শিলিংটন করেন ১২ রান।

অধিনায়ক জাহানারা প্রথম ওভারে ১১ রান দিয়ে আর বল করার সাহস দেখাননি। সালমা প্রথম ওভারে ‘খরচে’ হলেও পরে দুই ওভারে নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়েছিলেন। শেষ ওভারে তাঁর অভিজ্ঞতার ওপর যে প্রত্যাশা ছিল, সেটা অবশ্য মেটাতে পারেননি বাংলাদেশ নারী দলের ওয়ানডে দলপতি।

বল হাতে আজও দুর্দান্ত ছিলেন রুমানা আহমেদ। দারুণ বোলিং করেছেন নাহিদা আকতারও। এঁরা দুজন যথাক্রমে ১৬ ও ১৮ রান দিয়ে তুলে নেন ২টি করে উইকেট। খাদিজা তাঁর ৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দিলেও উইকেট পাননি। বল হাতে ‘কৃপণ’ হওয়ার পরেও শেষ ওভারটি অধিনায়ক জাহানারা কেন কুবরাকে দিয়ে করালেন না, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

ব্যাট হাতে বাংলাদেশি ব্যাটাররা আজ কী খেলেছেন, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া হতেই পারে। পুরো ইনিংসে বাউন্ডারির সংখ্যা মাত্র ৪ টি! টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমে মাত্র চারটি বাউন্ডারির ব্যাপারটি আসলে ঠিক মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ১০৫ রানের ইনিংসটিও তাই মেনে নেওয়া যায় না।

রুমানা আর নিগার সুলতানার মধ্যে যে ৭৪ রানের জুটিটা গড়ে উঠেছিল, সেটাতে সিঙ্গেলসের আধিক্যই ছিল বেশি। আইরিশ বোলাররা বলও করেছেন বেশ ভালো। বাউন্ডারি মারার ব্যাপারটি তাই বেশ কঠিনই হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য।

নিগার সুলতানার ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ৪১ রান। কিন্তু এই ৪১ রান করতে তিনি খেলেছেন ৫৭ বল। মাত্র ২টি চারে সাজানো তাঁর এই ইনিংসটি নিয়ে হয়তো আজ বিকেলেই টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসতে হবে তাঁকে।

রুমানা আহমেদের ক্ষেত্রে একই কথা। যদিও ব্যাট হাতে এই প্রতিযোগিতায় এই প্রথমবারের মতো জ্বলে উঠলেন তিনি। কিন্তু জ্বলে উঠে তিনি আইরিশ বোলারদের তাঁর ব্যাটের তাপে পোড়াতে পারেননি।

ব্যাংককে নেমেই দলের ব্যাটিং দুর্বলতার কথা বলেছিলেন অধিনায়ক জাহানারা। কিন্তু সেই দুর্বলতা ভুগিয়েছে পুরো প্রতিযোগিতাতেই। ফাইনালে এসে দলের ব্যাটিং দুর্বলতা যে এমন প্রকট চেহারা নেবে, সেটা বোধহয় ভাবেননি তিনি। ব্যাটসম্যানদের জন্যই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্থান করে নেওয়ার আনন্দটা পুরোপুরি উপভোগ করতে পারল না বাংলাদেশের মেয়েরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১০৫/৩ (২০ ওভার)
নিগার সুলতানা ৪১, রুমানা আহমেদ ৩৮*, ফারজানা হক ৬*
সিয়ারা মেটক্যাফে ৩/১৪
আয়ারল্যান্ড ১০৬/৮ (২০ ওভার)
সেসেলিয়া জয়েস ৩২, লরা ডিলানি ২৬
রুমানা আহমেদ ২/১৬, নাহিদা আকতার ২/১৮
সালমা খাতুন ১/২৯, খাদিজা-তুল-কুবরা ০/১১

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.