আমনের ভাল ফলন, তবুও হাসি নেই কৃষকের মুখে

0

কৃষি সংবাদ :: খাদ্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর জেলায় এবার আমনের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষক তার উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে তা পুষিয়ে নিতে পারছেন না।

অপরদিকে, লোকসানের আশঙ্কায় মিলাররা এবার ধান কিনছেন ধীর গতিতে। একটি মাঠ ছাঁটাই করার পর তা বিক্রি না হওয়ার আগে অন্য মাঠের ধান কিনছেন না তারা। ফলে কৃষক তার উৎপাদিত ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
অপরদিকে কমে যাচ্ছে শুগন্ধি ধানের আবাদ। উৎপাদন কম হওয়ায় ও ধানের দাম সময়মতো না পাওয়াই শুগন্ধি ধানের চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে চাষিরা।

দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় ২ লক্ষ ৫৩ হাজার ৯৬৩ হেক্টর জমিতে আমন ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এবার ২ লক্ষ ৫৬ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই হাজার ৫৮৪ হেক্টর বেশি।

এর মধ্যে চিনি গুড়া, জিরা কাঠারীর মত সুগন্ধি জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ১৩ হাজার ৩৫২ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে তা উৎপাদন হয়েছে ৯ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপ-পরিচালকগোলাম মোস্তফা জানান, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে এবার আমনের উৎপাদন হয়েছে। কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় কৃষক অতি উৎসাহী হয়ে আমন ধান রোপণ করায় এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

দিনাজপুর জেলার ১৩ টি উপজেলায় ৬৫টি ধান বেচা-কেনার হাট রয়েছে। এর মধ্যে কাহারোল সদর উপজেলার ফার্ম হাট, উপজেলার কাহারোল বাজার হাট ও আমবাড়ী হাট ধানের সবচেয়ে বড় হাট। তবে জেলার সব হাটগুলোতেই আমন ধানের বিপুল আমদানী হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জেলার সবচেয়ে বড় ধানের বাজার ফার্ম হাটে বিপুল পরিমান ধানের আমদানী হয়। কৃষকরা ভোর থেকে শুরু করে দুপুর একটা পর্যন্ত ধান বাজারে নিয়ে আসে।

বাজারে আসা বিনা-৭ জাতের ধানের ৭৫ কেজির বস্তা বিক্রি হয়েছে ১৪শত টাকা,বিআর-৪৯ জাতের ৭৫ কেজি ধানের বস্তা বিক্রি হয়েছে ১৪ শত ৫০ টাকা, বিআর-১১ জাতের ৭৫ কেজি ধানের বস্তা বিক্রি হয়েছে ১১ শত ৫০ টাকা, স্বর্ণ জাতের ৭৫ কেজি ধানের বস্তা বিক্রি হয়েছে ১২ শত টাকায়।

চিনি গুড়া, জিরা কাঠারীর মতো সুগন্ধি জাতের চিকন ধান ৭৫ কেজির বস্তা বিক্রি হয়েছে ২৬ শত থেকে ২৭ শত টাকায়।
বাজারে ধান কিনতে আসা মিলার নুরুজ্জামান শাহীন জানান, গত বছরে আগে ধান কিনে লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই এবার আগাম ধান কিনছি না। এ কারণে বাজারে ধান কেনা-বেচা কম।

কাহারোল উপজেলার ধান হাটে ধান বিক্রয় করতে আসা বিরল উপজেলার কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, বাজারে ধানের দাম নেই। কিন্তু কি আর করা। টাকার দরকার তাই কম দামে ধান বিক্রি করে দিয়েছি।

উৎপাদন খরচ কেমন হয়েছে জানতে চাইলে বীরগঞ্জ উপজেলার দামাইক্ষেত্র গ্রামের শাহজাহান সিরাজ জানান, একরে ৪০ থেকে ৪২ মন ধান উৎপাদন হয়েছে। সুগন্ধি জাতের ধান হবে ২৫ থেকে ২৭ মন। কিন্তু এ উৎপাদনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধান বিক্রি করে তা পোষানো যাচ্ছে না। তারা জানান, এক একর জমির ধান কাটা ও মাড়াই বাবদ খরচ হচ্ছে ৬ হাজার ৪শত টাকা। ধান লাগানো খরচ ২ হাজার টাকা, নিড়ানি খরচ ২ হাজার টাকা, হাল চাষ ৩ হাজার টাকা, সার ৪ হাজার টাকা, কীটনাশক ২ হাজার টাকা ও বীজ ১ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে খরচ হচ্ছে ১৭ হাজার ৪ শত টাকা। ধান বিক্রি হচ্ছে ১৯ হাজার ৪ টাকা। যেখানে কৃষকের শ্রমের মূল্য যোগ করলে কৃষকের লাভ বলে কিছুই থাকে না।
এদিকে চালকল মালিক গ্রুপের নির্বাহী কমিটির সদস্য শহিদুল রহমান পাটোয়ারী মোহন জানান, বাজারে ধানের দাম এ অবস্থায় থাকলে চালের ক্রয় মূল্য সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে থাকবে। যদি ধানের দাম বেড়ে যায় তাহলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে চাল। ব্যবসায়ীরা না কিনে দাম কমানোর কারসাজি করে এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ব্যবসায়ীরা ধান কিনছে না এটা সঠিক নয়, তবে তারা ধীরগতিতে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই ধান কিনছে। এতে করে মিলগুলো চালু থাকছে অপর দিকে মজুদদারীর বদনাম থেকে ব্যবসায়ীরা রক্ষা পাচ্ছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.