এমন বাংলাদেশ কার প্রত্যাশা ছিলো…!

0

জামাল জাহেদ, কক্সবাজার :: আজ আমরা হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত তবে দেশের ভিতরে থাকা শিকড় গজানো শকুনের হাত থেকে নিরাপদ ও মুক্ত নয়।কেন জানি মনে হয় এটা সত্য যদি আরেকবার ১৯৭১সালে ২৫ই মার্চের মতো ভয়ংকর যুদ্ধ হতো, তবে আজকের ১৬কোটি মানুষ দিয়েও কখনো স্বাধীনতা ফিরে আনা সম্ভব হতোনা কারন তৎকালীন মহান মুক্তিযোদ্ধা, বাংলার সাহসী যুবকের মতো আজকের বাংলাদেশ কখনো রনাঙ্গনে জয়ী হতোনা।কারন এখনকার মানুষ মুখে স্বাধীনতা কথা বলে,দেশের জন্য জীবন দেবেনা, দেশ মাতৃকার কথা বলে কিন্তু দেশের জন্য নিজের প্রান দেবেনা বরং গিলে খাওয়ায় ব্যস্ত সকলে।

শেক্সপিয়ার বলেছিলেন, এ জগতে কেউ কেউ জন্মগতভাবে মহান, কেউ মহত্বের লক্ষণ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন, আবার কেউ স্বীয় প্রচেষ্টায় মহানুভবতা অর্জন করেন।আমার মতে, এই ৩টি বৈশিষ্ট্যই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য৷কিউবার প্রেসিডেন্ট বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রোর কথাই ধরুন৷ তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি হিমালয় দেখিনি, আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি৷” ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট (১৯৭২ সালের এক সাক্ষাৎকারে) বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘‘আপনার শক্তি কোথায়?” বঙ্গবন্ধু সে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘‘আমি আমার জনগণকে ভালোবাসি৷” ‘‘আর আপনার দুর্বল দিকটা কী?” বঙগবন্ধুর উত্তর, ‘আমি আমার জনগণকে খুব বেশি ভালোবাসি৷”এই হলেন বঙ্গবন্ধু৷ জনগণের অন্তর্নিহিত শক্তির ওপর অপার আস্থা-বিশ্বাস, মানুষের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা, মমত্ববোধ, সহমর্মিতার বিরল দৃষ্টান্ত সমৃদ্ধ মানুষ – বঙ্গবন্ধু৷

স্বাধীনতা তো দিলেন, কিন্তু আসলে কী চেয়েছিলেন বাংলাদেশের এই বন্ধু? কেমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি? গড়তে চেয়েছিলেন কোন বাংলাদেশ? আমার মতে, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন তাঁরই উদ্ভাবিত দেশের মাটি থেকে উত্থিত অথবা স্বদেশজাত উন্নয়নের দর্শনের ওপর ভিত্তি করে এমন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে, যে বাংলাদেশ হবে সোনার বাংলা; যে বাংলাদেশে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি হবে চিরস্থায়ী; যে বাংলাদেশ হবে চিরতরে ক্ষুধামুক্ত-শোষণমুক্ত, যে বাংলাদেশে মানব-মুক্তি নিশ্চিত হবে; যে বাংলাদেশে নিশ্চিত হবে মানুষের সুযোগের সমতা; যে বাংলাদেশ হবে বঞ্চনামুক্ত-শোষণমুক্ত-বৈষম্যমুক্ত-সমতাভিত্তিক-অসাম্প্রদায়িক দেশ; যে বাংলাদেশ হবে সুস্থ-সবল-জ্ঞান-চেতনাসমৃদ্ধ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ মানুষের দেশ।বঙ্গবন্ধু গড়তে চেয়েছিলেন ‘সুস্থ-সবল-জ্ঞানসমৃদ্ধ-ভেদবৈষম্যহীন মানুষের উন্নত বাংলাদেশ।বিশ্ব নেতারা জাতির পিতাকে নিয়ে মন্তব্য করেন।”আমি হিমালয় দেখিনি, বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি- ফিদেল ক্যাস্ট্রো।আওয়ামীলীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মত তেজী এবং গতিশীল নেতা আগামী বিশ বছরের মধ্যে এশিয়া মহাদেশে আর পাওয়া যাবে না- হেনরি কিসিঞ্জার। শেখ মুজিবকে চতুর্দশ লুই য়ের সাথে তুলনা করা যায়। জনগণ তার কাছে এত প্রিয় ছিল যে লুই ইয়ের মত তিনি এ দাবী করতে পারেন আমি ই রাষ্ট্র-পশ্চিম জার্মানী পত্রিকা।শেখ মুজিব নিহত হলেন তার নিজেরই সেনাবাহিনীর হাতে অথচ তাকে হত্যা করতে পাকিস্তানীরা সংকোচবোধ করেছে-বিবিসি।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রথম শহীদ।তাই তিনি অমর-সাদ্দাম হোসেন।

শেখ মুজিবের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারাল তাদের একজন মহান নেতাকে, আমি হারালাম একজন অকৃত্রিম বিশাল হৃদয়ের বন্ধুকে-ফিদেল কাস্ট্রো।আপোষহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব আর কুসুম কোমল হৃদয় ছিল মুজিব চরিত্রের বৈশিষ্ট্য-ইয়াসির আরাফাত।মুজিব হত্যার পর বাঙালীদের আর বিশ্বাস করা যায় না,যারা মুজিবকে হত্যা করেছে তারা যেকোন জঘন্য কাজ করতে পারে-নোবেল বিজয়ী উইলিবান্ট।শেখ মুজিবুর রহমান ভিয়েতনামী জনগনকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন-কেনেথা কাউণ্ডা।শেখ মুজিব নিহত হবার খবরে আমি মর্মাহত। তিনি একজন মহান নেতা ছিলেন। তার অনন্য সাধারণ সাহসিকতা এশিয়া ও আফ্রিকার জনগনের জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল-ইন্দিরা গান্ধী।বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে বাঙলাদেশই শুধু এতিম হয় নি বিশ্ববাসী হারিয়েছে একজন মহান সন্তানকে-জেমসলামন্ড,ইংলিশ এম পি।প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের মতে, শেখ মুজিব ছিলেন এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব।ফিনান্সিয়াল টাইমস বলেছে, মুজিব না থাকলে বাংলাদেশ কখনই জন্ম নিত না।ভারতীয় বেতার ‘আকাশ বানী’ ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট তাদের সংবাদ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বলে, যিশুমারা গেছেন। এখন লক্ষ লক্ষ লোক ক্রস ধারণ করে তাকে স্মরণ করছে।

মূলত একদিন মুজিবই হবেন যিশুর মতো। একই দিনে লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকান্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে। নিউজ উইকে বঙ্গবন্ধুকে আখ্যা দেওয়া হয়, পয়েট অফ পলিটিক্স বলে।বৃটিশ লর্ড ফেন্যার ব্রোকওয়ে বলেছিলেন, “শেখ মুজিব জর্জওয়াশিংটন, গান্ধী এবং দ্যা ভ্যালেরার থেকেও মহান নেতা।জাপানী মুক্তি ফুকিউরা আজও বাঙালি দেখলে বলে বেড়ান,”তুমি বাংলার লোক? আমি কিন্তু তোমাদের জয় বাংলা দেখেছি। শেখ মুজিব দেখেছি। জানো এশিয়ায় তোমাদের শেখ মুজিবের মতো সিংহ হৃদয়বান নেতার জন্ম হবে না বহুকাল।মরহুম মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীও বলেছিলেন, ‘টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিবের কবর একদিন সমাধিস্থলে রূপান্তরিতহবে এবং বাঙালির তীর্থস্থানের মতো রূপ লাভ করবে।বঙ্গবন্ধুর নিহত হবার সংবাদ শুনে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত এতটাই দুঃখ পেয়েছিলেন যে, তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন “তোমরা আমার ই দেয়া ট্যাংক দিয়ে আমার বন্ধু মুজিবকে হত্যা করেছ! আমি নিজেই নিজেকে অভিশাপ দিচ্ছি”।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর শোকে পাথর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে আসার জন্য জার্মানির একটি এয়ারপোর্ট এ তাঁর পাসপোর্ট টি ইমিগ্রেশন অফিসার কে দেখালে সেই অফিসার পাসপোর্ট টি দেখেই শেখ হাসিনাকে বললেন “ছিঃ তোমরা বাংলাদেশিরা খুব জঘন্য একটি জাতি,যেই মানুষটি তোমাদের কে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন তাকেই তোমরা হত্যা করে ফেললে?স্বাধীনতার ৪৫টি বসন্ত পেরিয়ে যাচ্ছে আদৌ কি প্রয়াত অবিস্মরণীয় নেতা মুজিবের বাংলা মুজিবের মতো দাড়িয়ে আছে,নাকি গভীর খাদে কে তোলবে টেনে এমন একটা দেশকে,যে দেশের জনগন মুখে শুধু বাংলাদেশকে ভালোবাসে,কাজে নয়।

বিবেকের আদালতে বার বার দংশিত হয়েও সত্য কখনো মুখ দিয়ে বলেনা,যে জাতি সাদাকে সাদা কালো কে কালো বলার স্বাধীনতা পায়না সে দেশের মানুষ কি করে মুজিবের স্বাদ পায়,কোন দিকে অগ্রসর হচ্ছে তা বুঝতেছিনা।কেমন জানি শংকিত জনগণ। দেশের জনগনকে বলি ফিরিয়ে আনি এক শোষন মুক্ত নতুন বাংলাদেশ,যে বাংলাদেশে গনমাধ্যম উন্মুক্ত,টিভি মিডিয়া স্বাধীন,মতামত জানাতে পারে জনগণ অনায়সে,থাকবেনা কোন চাপ থাকবে একে অপরের ভালোবাসায় সাজানো এক নতুন রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্র কখনো দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবেনা।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.