সিটিনিউজবিডি :: সদর পৌরসভা নির্বাচনে এখন আওয়ামী লীগের নৌকা এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মর্যাদার লড়াই চলছে। দিন যত যাচ্ছে নৌকা ও ধানের শীষের মুখোমুখি অবস্থান তত জোরালো হচ্ছে। এমনকি ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল জাতীয় পার্টিও এখন কোমর বেঁধে নৌকার প্রচারণা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, বিএনপি-জামায়াত জোটের শরীকরা নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে নিয়েছেন এই নির্বাচনকে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‘আন্দোলন নয়, পৌর নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে সরকারকে ঘায়েল করতে হবে’ নির্দেশনায় জামায়াত তাদের শরিক দল বিএনপিকে জয়ী করতে নানামুখী কৌশলী ভূমিকা পালন করছে।
বিএনপি নেত্রীর এমন হুংকারের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সব অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে মাঠে জোরালোভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আ.লীগসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের যারা ঢিলেঢালাভাবে কাজ করবে, কিংবা যাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি আছে কেন্দ্রীয় নেতাদের।
ফলে কুড়িগ্রাম পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের হয়ে কাজ করছেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সাংসদ মো. জাফর আলীসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী সাইদুল হাসান দুলাল, কাজিউল ইসলাম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও শিল্পপতি পনির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, জাতীয় পার্টি বৃহৎ অংশের নেতা এস কে বাবু আহমেদ, নবাব আলী, আজিজুল ইসলাম সন্ডে প্রমুখ।
নির্বাচনী প্রচারণাকালে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থানায় দিয়েছেন।
নিজ নিজ দলের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় দুই দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ইতিমধ্যে কুড়িগ্রামে একাধিকবার সফর করেছেন। সাধারণ ভোটারদের কাছে ভোটভিক্ষা চাচ্ছেন। তবে বেকায়দায় পড়েছে বিএনপির প্রার্থীর কর্মীরা। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর কর্মীরা প্রতিনিয়ত ধানের শীষের কর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করছে এবং মাঠে কাজ না করার হুমকি দিচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ।
ভোট সুষ্ঠু হলে ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নুর ইসলাম নুরু। তিনি বলেন, “বিএনপির একেকজন ভোটার একেকজন কর্মীর ভূমিকা রাখছেন। সুতারাং ধানের শীষের বিজয় হবেই।”
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল জলিলও। তিনি বলেন, “দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় আমি শতভাগ আশাবাদী, আওয়ামী লীগের নৌকা বিজয়ী হবে।”
তবে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থী রাতের আঁধারে ভোটারদের মধ্যে টাকা ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ভোট ছিনতাই করে চলেছেন।
দুই প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আশাবাদের পাশাপাশি পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে ভোটারদের মধ্যে আশঙ্কাও জাগছে ভোট না শেষ পর্যন্ত সংঘাতে রূপ নেয়।
তবে আশঙ্ক আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেও নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে ভোটারদের মধ্যে।
