ভবনে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বরগুনার তালতলী উপজেলায় ১৬০ জন এইচএসসি (উচ্চমাধ্যমিক) পরীক্ষার্থী খোলা মাঠে টিনের ছাপরার নিচে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি এসব পরীক্ষার্থীর ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
তালতলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকেরা জানান, তালতলী উপজেলার তালতলী ডিগ্রি কলেজ, শহিদুল ইসলাম কলেজ ও তালতলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪৩০ জন শিক্ষার্থী এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডের শর্ত অনুযায়ী, নিরপেক্ষ স্থানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় এসব শিক্ষার্থীর জন্য স্থানীয় নূরজাহান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
কিন্তু এ বিদ্যালয়ে যে ভবন রয়েছে, সেখানে ২৭০ জন শিক্ষার্থীর আসন দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ১৬০ জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের খোলা মাঠে টিনের ছাউনি দিয়ে সেখানে আসন দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে এই কেন্দ্রে একইভাবে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পরীক্ষার্থী সোহাগ হাওলাদার বলে, ‘বেঞ্চে বসার পর মাথার এক হাত ওপরে টিনের ছাপরা দেওয়ায় তীব্র গরমে হাত, পা ঘামিয়ে কলম পিচ্ছিল হয়ে যায়। এমনকি ঘামে পরীক্ষার খাতা পর্যন্ত ভিজে যায়। এই পরিবেশে কোনোভাবেই পরীক্ষা দেওয়া যায় না। কিন্তু বাধ্য হয়ে আমাদের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।’
অভিভাবক জলিল হাওলাদার বলেন, ‘এর আগে একেবারে খোলা মাঠে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ বছর টিনের ছাপরা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে শিক্ষার্থীদের আরও অসুবিধা হচ্ছে। এমন পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া হলে ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে ভালো ফল আশা করব কীভাবে?’
তালতলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘পরীক্ষা নেওয়ার জন্য তালতলীতে অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা এ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিই। সামনে পরীক্ষার্থী আরও বাড়বে, তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।’
অধ্যক্ষ আরও বলেন, ২০০৪ সালে উপজেলার একমাত্র এই বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিনে তা এমপিওভুক্ত হয়নি। এটিতে সরকারি কোনো ভবনও নির্মাণ করা হচ্ছে না।
যোগাযোগ করা হলে বরগুনা জেলা প্রশাসক মীর জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে আপাতত পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব। আর বিদ্যালয়টির বিষয়েও খোঁজ নেব।
এ বিভাগের আরও খবর
