জামাল জাহেদ, কক্সবাজারঃ কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার একমাত্র পৌর ভবন দীর্ঘ ৬বছরেও কাজ সমপন্ন হয়নি।বর্তমানে অর্ধনির্মিত অবস্থায় পরিত্যক্ত ভবন হিসাবে পড়ে রয়েছে।মহেশখালীর পৌর কতৃপক্ষ ও তৎকালিন মেসার্স লাকি ট্রেডার্স নামক ঠিকাদারের গাফিলতির কারনে এ অবস্থা বলে সুত্রে জানা যায়।সরেজমিনে দেখা যায়,বর্তমানে পৌর ভবনের অবস্থা খুবই শোচনীয়,দেয়ালের ইটগুলো ঝরে যাচ্ছে। যেহেতু দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকার কারনে।দীর্ঘদিনের অবহেলা আর প্রাকৃতিক পরিবেশে দিন দিন পতিত পৌর ভবনের করুন অবস্থা আজ।
ভবনের দোতলা পর্যন্ত ছাদের নির্মাণকাজ শেষ হলেও।মাঝখানে এখনো অনেক গাথুনি দেয়াল নির্মান বাকি রয়েছে।যদিও ৭বছর যাবৎ কাজ বন্ধ রয়েছে।যেনো কংকালসার হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে পৌরভবন যেনো কালের সাক্ষী, দেখার কেউ নেই।তথ্যসুত্রে জানা যায়, বিগত ২০০৫সালের মে মাসে শুরুতে মহেশখালী পৌরসভাকে উন্নত করার লক্ষ্যে তৎকালিন সরকারের আমলে সাবেক মেয়র সরোয়ার আজমের সময়ে ৯৯লাখ ৮০০ টাকা ব্যয়ে উপজেলা সদরের অদুরে কলেজ মাঠের উত্তর পাশে,পৌরসভার নিজস্ব জায়গায় নির্মান করা হয় পৌর ভবনটির।
যা শেষ করার কথা ছিলো ২০০৬সালের জুন মাসে।কিন্তু কাজ শেষতো দুরের কথা,শেষ না করে ২০০৯ সালের মার্চ মাসে ঠিকাদারের লোকজন কাজ বন্ধ করে পালিয়ে যায়।আজ ও অবধি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদটি।যদিও মহেশখালীর পৌরসভায় দীর্ঘদিন যাবত ৪৩ টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানা যায়।কর্মকর্তা কর্মচারী বিহীন থাকায় পৌর কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে এবং নানা অনিয়ম ও নানা সমস্যায় জর্জরীত পৌরসভার বর্তমান মেয়র মোকসুদ মিয়া তার পৌর কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন টিএন্ডটি ভবনের পাশে চরম ঝুকিপুর্ন একটি ভবনে।
জানা যায়,কয়েক মাস আগেও পৌরসভার গ্যাজেটে বিভিন্ন দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও শুন্য আসন পুরন হয়নি।কোনমতে পৌরসভার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন যদিও বর্তমান মেয়র মহেশখালী পৌরসভার দায়িত্ব নেবার পরের মাসেই আলিশান সড়ক সহ নানা প্রশস্ত সড়ক তৈরি করে আলোচনায় আসেন।স্বপ্ন দেখেন মহেশখালীর মানুষ আধুনিক ও নগর উন্নয়ন হবে।যদিও বর্তমানে মহেশখালীর একমাত্র যোগাযোগব্যবস্থা জেটিঘাট নিয়ে বিপুল বিতর্কিত নায়ক মেয়র ।স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়,বার বার জেলা কিংবা জাতীয় দৈনিকে মহেশখালীর মানুষের ঘাট পারাপারের চরম ভোগান্তির খবর প্রকাশিত হলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা প্রশাসন।
এতে জনগন অনেকটা ক্ষোভ আর অভিযোগ করেন।মহেশখালী উপজেলাকে উন্নত করার লক্ষ্যে পৌরসভার নানা কার্যক্রম বর্তমানে চালু হলেও,পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি বলে জানান ঘোনা পাড়ার নাগরিক জনৈক হাবিব।স্বচ্চ আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জলের অভাবে তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ বলে জানান তিনি।ঘোনাপাড়া প্রধান সড়ক থেকে কলেজ গেইট পর্যন্ত সড়কের বেহালদশা, কুতুবজোমসহ পৌরসভার কয়েকশত ছাত্রছাত্রীদের প্রতিদিন স্কুল কলেজে আসতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।বর্তমানে কিছুতেই এ সড়ক দিয়ে কোন প্রকার যানবাহন চলতে পারেনা।পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলে ময়লা পানি রাস্তায় উপরে উঠে জমে থাকে ফলে বাধ্য হয়ে ছাএছাত্রীদের পাঠদানে অনুপস্থিতি গুনতে হয়।
ফলে জনসাধারনের চলাচলে অনুপযোগি হয়ে পড়ছে।অথচ পৌর কতৃপক্ষের সেদিকে কোন দৃষ্টি নেই বলে জানান আমির হোসেন। মহেশখালীর জেটি যেনো রাতে বাতিবিহীন ভুতের গলি।সড়ক গুলোতে নেই কোন বৈদ্যুতিক বাতি,যাত্রীচাউনী বিহীন জেটিঘাট, ল্যাম্পবাতি বিহীন অন্ধকারের কারনে বাড়ছে জেটিসহ থানা পাড়ায় দিন দিন চুরি ডাকাতি।এমনকি মহেশখালী থানার পুলিশের ব্যারাক থেকে ও এ পর্যন্ত কয়েকবার মোবাইল ও টাকা চুরির ঘটনা শোনা যাচ্ছে।বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্টানে পৌর এলাকায় নেই কোন নির্দিষ্ট জবাই খানা। উপজেলা প্রানীসম্পদ কর্মকর্তার সিল ছাড়াই রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে দিনে রাতে মাংস বিক্রি করছে বিক্রেতারা । গরু জবাইয়ের নিয়ম নীতি থাকলেও কাগজে কলমে তা সীমাবদ্ধ। সেদিকেও পশু ডাক্তারের কোন দৃষ্টি নেই। নির্দিষ্ট জবাই খানা না থাকার কারনে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয় গরু জবাইএর বর্জ্য গুলো।ফলে জনসাধারনেরভোগান্তি চরমে।বর্তমান পৌর মেয়রকে নিয়ে মহেশখালীর জনগন স্বপ্ন দেখলেও তা পুরন হবে কিনা তা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন হিন্দু পাড়ার জলদাস বাবু।
অন্যদিকে পুটিবিলার জসিম নামে এক নাগরিক জানান,নিরাপদ পানির ও নাগরিক ব্যবস্থা না থাকলেও পৌরবাসীকে কোন সুযোগ সুবিধা ছাড়া, প্রতিবছর বাড়িয়ে দিতে হচ্ছে-পৌর কর, ভ্যাট, ট্যাক্স আর হোল্ডিং।যদিও জনগনের সুযোগ সুবিধার জন্য সরকার,কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর ভবন নির্মানের বাজেট দিলেও কেন তা কার্যকর রুপ পাচ্ছেনা তা আজ জনগনের বড়প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।পরিত্যক্ত ভবন সঃস্কার বা পুননির্মিত না করায় গরু ছাগলের চারন ভুমি ও বখাটেদের আড্ডা স্থলে পরিনত হয়েছে ভবনটি।নষ্ট হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকার প্রয়োজনীয় পৌর সম্পদ।পৌরবাসীর সেবার জন্য নির্মান করা হয়েছিলো কোটি টাকার স্বপ্নের দ্বীতলা পৌরভবন।
অন্যদিকে বর্তমান পৌরপিতা মোকসুদ মিয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে কক্সবাজার ব্যস্ত থাকায় পৌর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নাগরিক সনদ, জন্ম সনদ, ট্রেড লাইসেন্স সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য বারবার যাতায়তে বাড়তি অর্থ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেকে।
অপর দিকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য কোন পাঠাগারের ব্যবস্থা না থাকায়।এলাকার ছেলেরা বিভিন্ন রাস্তার চা স্টলে এবং স্কুল-কলেজের সড়কে আড্ডা দিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করছে, প্রকারান্তরে বাড়ছে ইভটিজিং সহ নানা প্রকারের অপরাধ ।এক্ষেত্রে একটি আধুনিক পাঠাগারের কথা দাবি জানান।
অন্যদিকে পৌরভবন নির্মান বিষয়ে সাবেক মেয়র সরোয়ার আজম বলেন,”এক কোটির উপরে বাজেট ছিলো তা সত্য তবে আমি অর্ধেক কাজ শেষ করে দিয়েছি।সামান্য কাজ বাকি ছিলো আমার দায়িত্বকালে কিন্তু ওয়ান ইলেভেনে আমি জেলে গেলে ভারপ্রাপ্ত মেয়র পুন্য দা দায়িত্বকালে কাজ বন্ধ হয় বলে শুনেছি পরে,,।এ প্রসঙ্গে মহেশখালী পৌরসভার বর্তমান মেয়র মোকসুদ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,”পুর্বের মেয়রের সময় কাজ শেষ শুরু করলেও পৌরভবনের, দুর্নীতির কারনে বন্ধ হয় তবে পুনঃরায় নতুন বাজেট পেলে কাজ শুরু করা হবে,,।বর্তমান সময়ে পৌর নাগরিকের সঠিক উন্নয়ন হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নে জানান,সরকার ও বিশ্ব ব্যাংক, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক সহ দাতা সংস্থাগুলো অবকাঠামো উন্নয়নে এগিয়ে আসার কারনে মহেশখালীর পৌরসভায় সড়কের ও জনগনের উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে বলে জানান তিনি।মহেশখালীর জনগন যদিও স্বপ্ন দেখে আধুনিক একটি পৌর ভবনের,যেখানে পাওয়া যাবে নাগরিকের সুযোগ সুবিধাসহ ডিজিটাল বাংলাদেশের নানা প্রযুক্তিগত সুবিধা।
