কৃষি সংবাদ, সিটিনিউজবিডি : বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মিষ্টি একটা গন্ধ। ঘন সবুজ পাতার মধ্যে হালকা নীল রঙের ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে গাছ। সুন্দর এ দৃশ্য যে কাউকেই কাছে টানে। লালমনিরহাটের মাঠে মাঠে এখন শোভা পাচ্ছে ‘কালোজিরা’ নামের এই ফসলটি।
চলতি রবি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে কালোজিরার চাষ করেছেন কৃষকরা। আগে অনেকে শখের বসে কালোজিরার চাষ করতেন। এখন মাঠ জুড়ে পরিকল্পিতভাবে এ ফসলের আবাদ হচ্ছে। লালমনিরহাটের বিভিন্ন ফসলের মাঠের এ দৃশ্য এখন সবার কাছে অতি পরিচিত।
উৎপাদন খরচ কম, ব্যাপক চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে ঔষধি ও ভেষজ গুণসম্পন্ন ‘কালোজিরার’ চাষ। কালোজিরার ছোঁয়ায় লালমনিরহাট সদরসহ ৫টি উপজেলার ৭ সহস্রাধিক কৃষকের পরিবারে নতুন সম্ভাবনা জেগে উঠেছে। ‘কালোজিরা’ ভাগ্য ফিরিয়েছে এসব মানুষের।
লালমনিরহাট আঞ্চলিক মশলা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, লালমনিরহাট জেলায় এবার ৬৩২ হেক্টর জমিতে কালোজিরার আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে সদর উপজেলায়। কৃষি বিভাগ হেক্টরে প্রায় ৩০-৪০ মণ কালোজিরা উৎপাদনের আসা করছেন। সে হিসেবে লালমনিরহাটে এবার দুই হাজার ৮শ মণ কালোজিরা উৎপাদন হবে।
চাষীরা জানান, কার্তিক মাসের শেষের দিকে কালোজিরা চাষের উপযুক্ত সময়। বপনের তিন থেকে চার মাস পর ফসল পাওয়া যায়। পতিত জমি কম টাকায় লিজ নিয়েও অনেকে কালোজিরার চাষ করছেন। কেউ কেউ আবার উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের এক ভাগ জমির মালিককে দিয়েও আবাদ করেছেন।
কালোজিরা চাষের জন্য প্রথমবার বীজ কিনলেই চলে। পরে নিজের ক্ষেতের বীজ দিয়েই আবাদ করা যায়। রোগবালাই নেই বললেই চলে, তাই কীটনাশকের খরচ নেই। গড়ে এক বিঘা জমিতে চাষে খরচ পড়ে ৪ হাজার ২০০ টাকার মতো। ওই জমি থেকে তিন থেকে চার মণ কালোজিরা পাওয়া যায়। প্রতি মণ কালোজিরা বিক্রি হয় পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার টাকায়।
গত কয়েক বছর ধরে বাজার চাঙ্গা থাকায় এ এলাকার কৃষক কালোজিরা চাষে ঝুঁকছেন। অনেকে অন্যান্য ফসলের ক্ষেতের আইলে কালোজিরার আবাদ করে বাড়তি উপার্জন করছেন। কালোজিরার বহুমুখি ব্যবহার ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করায় কালোজিরার কদর এখন আগের চেয়ে বেশি।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাফায়েত হোসেন বলেন, ‘এ জেলার প্রায় সব গ্রামে এখন ব্যাপকহারে কালোজিরা আবাদ হচ্ছে। প্রায় ৭ হাজারেরও বেশি কৃষক প্রতি বছর কালোজিরা চাষে লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’
