মহেশখালীর একজন সাহসী পুলিশ ওসি দিদারুল

0

জামাল জাহেদ, কক্সবাজার: একজন মেধাবী,নিরপেক্ষ আর পরিশ্রমী সাহসী পুলিশ অফিসার বিশ্বের মানচিত্রে অমর।সকল অপরাধীদের সনাক্তকরন প্রকৃত শক্তির উৎস সহ নিরপেক্ষ ভুমিকায় আদালতে প্রেরন যাদের হাতে ন্যস্ত থাকে তারা হলো পুলিশ বাহিনী।মহামান্য আদালত বা বিচারক কখনো কোন আসামীকে ফাঁসী দেয়না,ফাঁসীর দন্ড হয় পুলিশ অফিসার কতৃক সিএস প্রেরণে। বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রে যদি পুলিশ বাহিনী না থাকতো তবে সে দেশে কখনো আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হতো না।

এই কারনে যে দেশের পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম যত উন্নত সে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও তেমন উন্নত। এছাড়া যে দেশের পুলিশ বাহিনী যত কর্মঠ সে দেশের জনগন তত শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং দেশ প্রেমিক।একজন সামান্য সাংবাদিক হিসাবে আমার মনে হয়,দেশের নিয়ম বা অনিয়ম ঘটনাবলী সমপর্কে সত্যকে উৎঘাটন করে, সৎ ও সাহসিকতার সাথে নিরপেক্ষ ভাবে আইন এবং সমাজের কাছে তুলে ধরে যাচ্ছেন মহেশখালীর ওসি তদন্ত। ছোট্র জীবনে পুলিশ বাহিনী নিয়ে অনেক লেখা পড়েছি,তবে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে অনেক সৎ নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা রয়েছে যারা জীবন বাঁজি রেখে সততার সাথে দায়ত্বি পালন করে আসছে। আজ এমনই এক সাফল্যের বরপুত্র কে নিয়ে আমার আজকের এই উৎসাহ মূলক প্রতিবেদন। আর তিনিই হচ্ছেন মহেশখালীর থানার ওসি তদন্ত মোঃ দিদারুল ফেরদৌস।

জানা গেছে, সাহসী পুলিশ অফিসার মোঃ দিদারুল ফেরদৌস ২০০০সালে সাব ইন্সপেক্টর হিসাবে যোগদান করেন।তবে মহেশখালীতে ২০১৪সালে যোগদানের পর থেকে তার চৌকস অফিসারদের নিয়ে রাত দিন কঠোর পরিশ্রম করে,নিজের সাহসী পদক্ষেপ আর কোটকৌশলে মহেশখালীর মানবপাচার,মাদকপাচার,যুদ্ধাপরাধী,ছিনতাইকারী, অপহরণকারী, জাল টাকা ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চোর, ডাকাত, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অবদান রেখেছেন। যার ফলে স্থানীয় থানা ও পুলিশ বিভাগের প্রতি মহেশখালীর জনগনের স্বস্তি আসা ও বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিপূর্বে মহেশখালীতে অন্য কেউ এমন বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে সমপন্ন হয়নি।

এছাড়াও অফিসার ইনচার্জ এর অবর্তমানে অত্যান্ত মেধাবী এই অফিসার কঠিন পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করে মহেশখালীর আইন শৃঙ্খলাকে পুর্বের থেকে অনেকটা স্বাভাবিক করেছেন।যদিও মহেশখালী নামের সাথে অনেকগুলো বিশেষণ ইতিমধ্যে গনমাধ্যমে তোলপাড় যেমন ক্রাইমজোন,অপরাধের স্বর্গরাজ্য,মাদক ও ইয়াবার ট্রানজিট,চোরাচালানের নিরাপদ ঘাটিসহ সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য খ্যাত কালামারছড়ার মহেশখালী। তার কঠোর হস্তক্ষেপে ঘটিভাংগা, শাপলাপুর,ছোটমহেশখালী সড়কের ডাকাতি,মানবপাচার,মাদকপাচার,ও অন্যান্য অপরাধ অনেকটা সফলতার ঝুলিতে।খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে,ওসি তদন্ত দিদারুল ফেরদৌস মহেশখালী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তিনি এ থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

এ কারণে ক্রমশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে বলে জনগনের দাবী। তাছাড়া, একাধিক ভুমিদূস্যতা, দখল-বেদখল, মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি সহ আইন-শৃংখলা পরিপন্থী কার্যক্রম রাখায়, পারদর্শীতা দেখিয়েছেন তিনি যার কারনে পুলিশ ডিপার্টমেন্টে বহুবার সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে পুরষ্কৃত হয়েছেন।তথ্যমতে জানা যায়,ওসি ফেরদৌসে চাকরি কালে ব্রাম্মনবাড়িয়া,চট্রগ্রাম সিআইডি,টেকনাফ থানা,ফেনী থানা,রামু থানায় চাকরি জীবনে প্রসংশনীয় কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ জনগনের আস্থা অর্জন করেন অতি সুনামের সাথে।চৌকস পুলিশ অফিসার হিসাবে জাতিসংঘ মিশনে সেট মিশন হিসাবে ২০০৯সালে সুদানের দারপুলে মিশন করেন।অত্যন্ত সুনামের সাথে মিশন করে পরে দেশে আবারো পুলিশে যোগদান করেন নিয়মিত।উল্লেখ্য থাকে যে,এবারে ও তিনি মিশনে যাবার জন্য বহুপ্রতিযোগিতামুলক সেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অপেক্ষারত,যে কোন মুহুর্তে জাতিসংঘে অধীনে মিশনে যাবেন।তথ্যসুত্রে জানা যায়,২০০৭সালে পুলিশের পদোন্নতিপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ পরীক্ষায় বিভাগীয় প্রথম হন।দীর্ঘদিনের চাকরি জীবনে কখনো টাকার পেছনে ছুটেননি তিনি বরাবরেই জনগনের জানমাল রক্ষায় জীবন বাজি রেখে এগিয়ে গেছেন সততার সাথে।

এমনকি কক্সবাজার রামু থানায় থাকাকালে মাঝরাতে একা জীবন বাজি রেখে ডাকাতের হাত থেকে বৃদ্ধকে রক্ষা করেন।জীবনে নিজেকে কখনো পুলিশ অফিসার ভাবেন নি,ভেবেছেন নিজেকে জনগনের সেবক।নিজেকে দিয়ে প্রমান করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পুলিশ জনগনের বন্ধু।মহেশখালীর অপরাধ দমন ছাড়াও আইন-শৃংখলার উন্নতিকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত সরকারের,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় নির্দেশনা মোতাবেক মহেশখালীতে মানবপাচারের জিরো টলারেন্সে সফল করেন তিনি। মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলের বিষয়ে কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করছেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আমার কোন আপস নেই। এর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে পুলিশের। কোন ছাড় দেয়া হবে না। এছাড়া থানার পুলিশকে জনবান্ধব পুলিশে রূপান্তরিত করতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান। অপারেশনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সচেতন মূলক সেমিনার করেন তিনি। ইভটিজিং বন্ধে মহেশখালীর স্কুল ও কলেজ এলাকায়ও পুলিশী টহল জোরদার সহ নানা সেমিনারে করে সচেতন করে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী সহ অভিভাবকদেরকে নজরে এনে, জরুরি যেকোন ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই থানা পুলিশকে অবহিত করার জন্যও নাম্বার চালু করেন তিনি।

ঘুষ দূর্নীতি এমনকি মহেশখালী থানা এলাকার এক শ্রেনীর দালাল চক্রের প্রভাবকে গুড়িয়ে দিয়ে সাধারন জনগনের আস্থা ফিরিয়ে আনেন।এসবই মাত্র কয়েক মাসে অর্জন করতে পেরেছেন নিজের সততা আর কর্ম স্পৃহার গুনে।নারী পুলিশ দিয়ে নারী আসামীদের গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করে,নতুন ইতিহাস গড়েছেন মহেশখালী থানায়।সত্যিই তিনি বারবার প্রমান করতে চেয়েছেন,পুলিশ জনগণের বন্ধু, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব বিশেষত্ব পুলিশের।ওসি ফেরদৌস বলেন,পুলিশ মানে অাতংকিত কোন বাহিনীর নাম নয়, কারনে অকারনে মানুষকে থানায় ধরে নিয়ে নির্যাতন করার জন্য নিয়োজিত কিছু সরকারি মানুষ ওরাই পুলিশ এ ধারণাই সাধারণ মানুষের।এটা তিনি বদলে দিয়ে যাচ্ছেন।তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন পুলিশের মধ্যে শিক্ষিত উচ্চ শিক্ষিত অফিসার নিয়োগ পেয়েছে, যারা সাধারণ জনগণের এনালগ ধারণাকে পাল্টে দিতে বেশি সময় নিবেনা।অন্যদিকে মহেশখালীতে আসায় পর অবদান রেখেছেন নানা মামলা,নানা জটিলতা,নানা সেমিনার,নানা সচেতনতামুলক অনুষ্টান সহ,মহেশখালীতে আইন শৃংখলা কমিটির সভায় যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য, কুতুবজোম ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলা, ৫ সন্তানের জননী ইছমত আরার আত্মহত্যা না খুন বের করে,দু’পক্ষের পরস্পর বিরোধী বক্তব্যের সুরাহা,কালামারছড়া দক্ষিণ চাইল্লাতলির সাজ্জাদের সন্ত্রাসী আস্তানা ধবংস,পুলিশের উদ্যোগে বাল্য বিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধক সেমিনার,সাড়াশি অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার,থানা কম্পাউন্ডে মাদক দ্রব্য ধবংস,সাগরে ভাসমান জেলের লাশ উদ্ধার করে পরিবারে হস্তান্তর।

এবং সবচেয়ে আলোচিত মাতারবাড়ি স্বামী স্ত্রীর নাটকীয় মামলা ও পরকিয়ার গোপন রহস্য উৎঘাটন করে,৩মাস ধরে মোবাইল ট্রেকিং করে পরে খুরুশকুল থেকে গ্রেফতার করে পুরা কক্সবাজার জেলায় তাক লাগিয়ে দেন সমস্ত প্রশাসনকে ওসি ফেরদৌস।মাতারবাড়ির সেই জটিল মামলার সুরাহা করেন তার মেধা আর মনন দিয়ে।মহেশখালীর মতো বাংলাদেশের প্রতিটি থানায় যেনো তদন্ত ওসি মোঃ দিদারুল ফেরদৌসের মতো সাহসী মেধাবী চৌকস পুলিশ অফিসার জম্ম নেয়,তাহলে বাংলাদেশের জনগনের পুলিশ সম্পর্কে ভুল ধারনা অল্প সময়েই পাল্টে যেতো।যেহেতু যারা জনগণকে সত্যিই প্রজাতন্ত্রের মালিক মনে করে তাদের ভেতরে কখনো পঙ্কিলতা থাকেনা।তেমনি এক অফিসারের নাম আজকের ওসি তদন্ত মোঃ দিদারুল ফেরদৌস। নিজেকে যারা জনগনের সেবক মনে করে। সাহসী নিরপেক্ষ নির্ভীক পুলিশ অফিসার মোঃ দিদারুল ফেরদৌসের মতো তারা কখনো হাততালি বা পুরস্কারের আশায় কাজ করেনা।সত্যিকার পুলিশ অফিসারের কাছে রাষ্ট্রের দেওয়া গুরু দায়িত্ব ও ন্যায় বিচার,সততা এবং অসহায় মানুষের কান্নার জল অনেক দামি।টাকা কোন মুখ্য বিষয় নয় তাদের জীবনে।ইচ্ছে করলে বর্তমান সময়ে মোঃ দিদারুল ফেরদৌসের মতো অফিসার কোটিপতি হতে পারে কিন্তু তার কিছু চায়নি কারন বিবেকের কাছে দায়বন্ধ রয় অফিসারগন।তারপরেও বাংলাদেশের জনগনের মাঝে দীর্ঘদিনের বদ্ধ ভুল ধারনা আর দৃষ্টি ভঙ্গির কারনে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ আর দুর্নীতির অভিযোগ।

আদৌও কি শুধু সারা পৃথিবীর পুলিশ ঘুষ খায় নাকি সব জায়গায় ঘুষ আর দুর্নীতি হয়।বিষয়টি আসলে,সব পাখি মাছ খায় তবে সব দোষ শুধু মাছরাঙা পাখির।ব্যক্তিগত জীবনে ওসি তদন্ত মোঃ দিদারুল ফেরদৌস,স্ত্রীসহ তিন সন্তানের জনক ১মেয়ে ২ছেলে নিয়ে চট্রগ্রামের হালিশহরে বসবাস করেন। বড় ছেলে তানজিলাল আজিজ,মেঝো ছেলে সাকিদ আল আজিজ,ছোট মেয়ে মুনিরা নিগার।যতদিন বেচে থাকবেন ততদিন যেনো নিজেকে জনগনের স্বার্থে উৎসর্গ করে কাজ করে যেতে চান তিনি।পুলিশ কখনো কারো স্বার্থে কাজ করেনা পুলিশ জনগনের বন্ধু,জনগনকে পুলিশের উপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন,সকলের দৃষ্টিপাত বদলে নিই,জীবন বদলে যাবে,আর জীবনের সাথে পুলিশের সেবা সব সময় থাকবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.