সিটিনিউজবিডি : বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সরকার নিষ্ঠুর, নির্দয় রক্তপাতের মাধ্যমে গোটা জাতিকে স্থির, নিস্তব্ধ গোরস্থানে পরিণত করতে চাচ্ছে। কবরের শান্তি যুদ্ধের চেয়েও আরও বেশী ভয়ঙ্কর।’
রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘দেশবাসী অপেক্ষা করছে প্রধানমন্ত্রীর আত্মম্ভরী প্রগলভতার যবনিকাপাতের খবর শোনার জন্য। গোটা দেশ এখন অগ্নিগর্ভ। যদি জনগণের মনের কথা, বেদনার কথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করতে না পারেন, তাহলে জনগণের ক্ষোভ যে কোন মূহুর্তে সুনামীর ন্যায় আছড়ে পড়ে দস্যুদলের ন্যায় আচরণকারী বর্তমান সরকারকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।’
‘ভোটারবিহীন গদি আটকে রাখা শাসকগোষ্ঠী দেশকে চরম অরাজকতার লীলাভূমিতে পরিণত করেছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বিরোধী দল নির্মূল করার অভিযানে লেলিয়ে দিয়ে তাদের বুকের মাপটা বড় করে দেয়া হয়েছে।’
‘‘বিগত কয়েক বছর বিচার বহির্ভূত হত্যা, বে-আইনী গুম ও গুপ্তহত্যা সংঘটিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে যে ছাড়পত্র দিয়েছিল সরকার, তাতে তারা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে এখন বিবেকহীন অবিশ্বাস্য রকম বেপরোয়া ‘আউট ল’-তে পরিণত হয়েছে,’’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সদা তৎপর র্যাব-পুলিশ কর্তৃক এখন সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করা যেন গা-সওয়া করে দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘চাঁদাবাজী, জুলুম, প্রহার, নিরীহ মানুষকে আটক করে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মামলা দেওয়া বা ভয় দেখানো, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, আদায় না হলে হত্যা করা ইত্যাদি পৈশাচিক অপকর্মে লিপ্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সদস্যরা।’
‘সম্প্রতি মিরপুরের ১ নং গগুদারাঘাট এলাকায় পুলিশ কর্তৃক গরীব চা বিক্রেতা বাবুল মাতব্বরের মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। দলের পক্ষ থেকে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান রিজভী।
