নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের বিচার শুরু

0

সিটিনিউজবিডি : চাঞ্চল্যকর সাত খুনের দুটি মামলায় অভিযুক্ত ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত। ফলে এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু হলো।

সাত খুনের দুটি মামলায় সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে মামলার গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি নূর হোসেন ও র‍্যাবের চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, এম এম রানাসহ ২৩ জনকে হাজির করা হয়।
শুনানি শেষে সাত খুনের দুটি মামলার চার্জ গঠন করেছেন আদালত। শুনানির সময়ে ১২ জন অনুপস্থিত থাকলেও পলাতক ওই ১২ জনের বিরুদ্ধেও চার্জ গঠনের ফলে তাদের অনপুস্থিতিতেই বিচার কাজ চলবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, আদালত দুটি মামলার চার্জ গঠন করেছে এবং আগামী ২৫ তারিখ থেকে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। আদালতে চার্জ গঠনের সময়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করেছিল। রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতার কারণে আদালত ৩৫ জনকেই অভিযুক্ত করে চার্জ গঠন শুরু করেছে।

মামলায় আসামিপক্ষে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, প্রাক্তন পিপি সুলতানুজ্জামান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমএ রশিদ ভূইয়া, সুপ্রিমকোর্টের সাবেক এডিশনাল অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফউজ্জামানসহ অর্ধশত আইনজীবী।
নারায়াণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, সোমবার সকালে কঠোর নিরাপত্তায় ২৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। নূর হোসেন ছাড়া বাকিরা হলেন, সামরিক বাহিনী থেকে বরখাস্ত ও র‌্যাব-১১ সাবেক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, র‌্যাব-১১ এর স্পেশাল ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানির ক্যাম্প কমান্ডার এম এম রানা ও মেজর আরিফ হোসেন, র‌্যাব সদস্য এসআই পূর্ণেন্দু বালা, এএসআই বজলুর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ, হাবিলদার এমদাদুল হক ও নাসির উদ্দিন, কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন ও বাবুল হাসান, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, বেলাল হোসেন, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন, সিপাহী আবু তৈয়ব, নুরুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান নূর এবং নূর হোসেনের সহযোগী মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী ও আবুল বাশার।

এ মামলায় পলাতক রয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন, নূর হোসেনের সহযোগী সেলিম ও শাহজাহান এবং সানাউল্লাহ সানা, জামাল উদ্দিন ও র‌্যাবর কর্পোরাল লতিফুর রহমান, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সি এবং আল আমিন শরিফ, আব্দুল আলী ও তাজুল ইসলাম, সার্জেন্টন এনামুল কবির, এএসআই কামাল হোসেন ও কনস্টেবল হাবিবুর রহমান।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সাত খুনের ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আদালতে ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামনুর রশিদ মণ্ডল। মামলায় সাক্ষী দেখানো হয়েছে ১১৭ জনকে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.