উখিয়ায় অবৈধ ক্লিনিক-প্যাথলজীর সেবা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

0

শহিদুল ইসলাম, কক্সবাজার: উখিয়ায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠা সরকারী অনুমোদন বিহীন অবৈধ ক্লিনিকের ছড়া-ছড়ি। নামে মাত্র এসব ক্লিনিকগুলোতে নিম্ন মানের চিকিৎসা সেবাসহ রোগীদের নিকট থেকে গলাকাটা অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজস করে এক শ্রেণীর মুনাফা লোভী ক্লিনিক মালিক বিভিন্ন অযুহাতে রোগিদের নিকট অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে ভূক্তভোগিদের অভিযোগ।

উপজেলা বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, মরিচ্যা, কোটবাজার, সোনারপাড়া ও উখিয়া ষ্টেশনে বেশ কয়েকটি ক্লিনিক চালু করে সরকারী অনুমতি না নিয়ে ইচ্ছেমত রোগীদের সেবার নামে গলাকাটা অর্থ আদায় করে চলছে। বিভিন্ন রোগীদের রোগ নির্ণয়ের নামে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ দরিদ্র এলাকার সহজ-সরল মানুষদের ঠকানোর উদ্দেশ্যে এ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে ক্লিনিক মালিকরা। এসব ক্লিনিকে অশিক্ষিত যুবক-যুবতীদের চাকুরী দিয়ে কোন ডাক্তার ছাড়াই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চালানো হয়।

বিশেষ করে কোটবাজারের লাইফ কেয়ার ডায়াগনিষ্ট সেন্টার, অরিজিন হাসপাতাল, উখিয়ার পপুলার প্যাথলজী, সেঞ্চুরী, প্যারিস ও মরিচ্যা বাজারে ভূঁইপোড় প্যাথলজী সেবা প্যাথলজীতে পরীক্ষা-নিরিক্ষা ও রোগ নির্ণয় করতে আসা রোগীদের ব্যাপক হয়রানীর মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মরিচ্যা বাজারের ডাক্তার নামধারী কিছু অসাধু ডাক্তার ও সরকারি হাসপাতালের কিছু ওষুধচোর কর্মচারীর সমন্বয়ে ১বছর আগে মরিচ্যা বাজারের ফজলনুর শপিং কমপ্লেক্সের নিচ তলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেবা প্যাথলজী নাম দিয়ে একটি প্যাথলজী পরিচালনা করে আসছেন কতিপয় অসাধু প্রভাবশালী। গ্রামের সহজ সরল রোগীরা মরিচ্যা বাজারের যে কোন ডাক্তারের নিকট চিকিৎসা নিতে গেলে পরীক্ষা-নিরিক্ষার ফাঁদে পেলে রোগীদের মল, রক্ত, এক্সরে, ইসিজি, আলট্রাসনুগ্রাফিসহ বিভিন্ন রোগ পরীক্ষার নামে রোগিদের হয়রানি করে থাকে। শুধু তাই নয়, এসব ক্লিনিক ও প্যাথলজী গুলোতে নেই কোন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা। এমনকি বৈধ কাগজপত্রও নেই এসব ক্লিনিক মালিকদের। পদবীধারী বিভিন্ন ডাক্তারের সাইনবোর্ড লাগিয়ে রোগিদের ক্লিনিক ও প্যাথলজী মূখি করতে প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করছে।

হাজীর পাড়ার হাসিনা বেগম জানান, এটা ফার্মেসী মালিকদের যোগসাজস করে প্যাথলজী গুলো চালু করেন এক শ্রেণীর রোগি মারার কসাই। তা ছাড়া বিভিন্ন ক্লিনিকে রোগিদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করারও অভিযোগ উঠছে এসব প্যাথলজীর বিরুদ্ধে।

এলাকার জুহুরা বেগম জানান, গত সপ্তাহে আমার স্বর্দি জ্বর হলে আমি মরিচ্যা বাজারের ডাঃ নছরুল্লাহর কাছে যায়। তিনি আমাকে রোগ নির্ণয়ের জন্য ডায়বেটিস, জন্ডিস, টাইফেয়ট সহ ৪টি পরীক্ষা-নিরিক্ষার জন্য ৮০০ টাকা হাতিয়ে নেন। অথচ শেষ পর্যন্ত আমাকে ভাইরাস জ্বরের ওষুধ দিয়ে ফেরৎ দিয়েছেন। গোরাইয়ারদ্বীপ এলাকার জমির উদ্দিন জানান, মরিচ্যা বাজারের ডাঃ নামধারী কিছু সিন্ডিকেট ও ফার্মেসী ব্যবসায়ী সেবা প্যাথলজীর নামে কসাই খানা প্রতিষ্টা করে গরীবদের টাকা পরীক্ষা-নিরিক্ষার নাম দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কিছু অসাধু কর্মচারী এ প্যাথলজীতে পরীক্ষা-নিরিক্ষার ওষুধ সরবরাহ করেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তার আব্দুস ছালাম ও উখিয়া সদর হাসপাতালের ষ্টোরকিপার মোহাম্মদ আলী এ প্যাথলজীর সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রবিউর রহমান জানান, মরিচ্যা এ প্যাথলজীর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তাছাড়া একটি প্যাথলজী পরিচালনা করার জন্য সনদধারী একজন টেকনেশিয়ান এবং রিপোর্ট প্রদানের জন্য সার্বক্ষণিক একজন এমবিবিএস ডাঃ নিয়োজিত থাকার নিয়ম থাকলেও এ ল্যাবে একজন সনদ বিহীন আনাড়ি টেকনেশিয়ান দিয়ে রিপোর্ট প্রদানের চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়রা এসব অনুমোদন বিহীন প্যাথলজী গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রতারিত রোগিরা।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.