সুন্দরবনকে বাঁচাতে: ইউনেস্কোর সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক

0

ঢাকা অফিস : দেশের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো একটি প্রশ্নে জানতে চাই সরকারি ভাবে সুন্দরবনকে বাঁচাতে কি কি উদ্যোগ নিয়েছে। আর এইসব প্রশ্নের জবাব দিতে আজ ইউনেস্কোর সঙ্গে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হতে যাচ্ছে। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে। এদিকে সুন্দরবনকে বাঁচাতে সুন্দরবন ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন করে নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। যে নীতিমালায় কতদিন-কিভাবে সুন্দরবনে বেড়ানো যাবে তার একটি বিস্তারিত দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। নীতিমালায় আপাতত ১৫০ জনের বেশি সুন্দরবন ভ্রমণে গেলে এর জন্য বন বিভাগের অনুমতির প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সুন্দরবন বাঁচানোর জন্য ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুন্দরবন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কোস্টগার্ড স্টেশন স্থাপন, জীববৈচিত্র সংরক্ষণসহ আরো অনেক বিষয়। তবে আজকের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সুন্দরবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে কি কি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তার একটি ফিরিস্তি তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা।

সুন্দরবনকে বাঁচানোর জন্য ইতিমধ্যে গাছ কাটা বন্ধ থেকে শুরু করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সুন্দরবন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কচিখালী, কাগাদোবেকী ও পুষ্পকাঠিতে কোস্টগার্ড স্টেশন স্থাপনের জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ৩ একর ভূমি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত শাখা থেকে আবারো এ বিষয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে কোস্টগার্ড স্টেশন স্থাপনের জন্য অভয়ারণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা রামসার সাইট এমনকি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের মর্যাদা হারানোর সম্ভাবনা নেই। জলদস্যু, বনদস্যু ও ডাকাতের বিরুদ্ধে যে কোনো অপারেশন পরিচালনা করা সহজ হবে।

জানা গেছে, ভৌগোলিকভাবে কচিখালীর অবস্থান এমন স্থানে যার পাশ দিয়ে সব সময় বলেশ্বরী নদীগামী মাছের ট্রলারসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল করে। এসব মাছের ট্রলারগুলোকে নিরাপত্তা প্রদান করা কচিখালীতে অবস্থান করা ছাড়া সম্ভব নয়। কচিখালী থেকে নিকটবর্তী জলভাগ প্রায় সময় উত্তাল থাকে। জননিরাপত্তা ও দেশের অর্থনীতির স্বার্থ বিবেচনা করে সুন্দরবন অঞ্চলে জলদস্যু ও বনদস্যুদের তৎপরতা বন্ধের জন্য ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। সুন্দরবন জলসীমাসহ বাংলাদেশে জলসীমায় পরিবেশ দূষণকারী কার্যকলাপ অনুসন্ধান ও পরিশোধনের ব্যবস্থা করা কোস্টগার্ডের একটি দায়িত্ব।

এদিকে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত রাখতে সুন্দরবনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সুন্দরবনে ভ্রমণের নতুন নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.