ঢাকা অফিস : সরকারিভাবে বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্তে স্বাগত জানিয়েছে ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফেকচারস (এফএমএম)।
মালয়েশিয়ার বেশ কিছু বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ থেকে নতুন করে শ্রমিক নেওয়ার বিরোধিতা করে দেশটিতে কর্মরত বিদেশি শ্রমিক ও শরণার্থীদের স্বার্থ রক্ষার জোর দাবি জানানোর পর শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় এফএমএম। ফেডারেশন জানায়, তারা নিশ্চয়তা চায় যে- এসব লোকের নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও যথাযথ হয় এবং তাদের এদেশে আনতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার কোনো আউটসোসিং প্রতিষ্ঠান ও এজেন্টকে যুক্ত না রাখা।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, অতীতে চাকরির নিশ্চয়তা ছাড়ায় অনুমোদিত আউটসোসিং কোম্পানিগুলোকে বিদেশি শ্রমিকদের দেশে এনেছিল, তাদের অনেকেই অবৈধ হয়ে গেছে।
দক্ষ ও যোগ্য শ্রমিকদের ওপর গুরুত্বেরোপ করে সংগঠনটি জানায়,উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলো (ম্যানুফেকচারারস) ওই রকম শ্রমিক চায় না, যারা এই কাজ করতে ইচ্ছুক নয় এবং যাদের এ ব্যাপারে কোনো দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নেই।
শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সরকার-টু-সরকার পদ্ধতিতে শ্রমিক নিয়োগের বিষয়বস্তু বিশেষত, বিদেশি শ্রমিক আনার খরচ বিস্তারিত তুলে ধরার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় এফএমএম।
এদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা স্বত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে আরও শ্রমিক নেওয়ার কথা বলেছেন মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি।
বৃহস্পতিবার সে দেশের সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ীই বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শ্রমিকদের কর থেকে মুনাফা লাভের জন্য নয়।
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্থানীয় সমালোচকেরা বলছেন, শ্রমিকদের কর থেকে মুনাফা লাভের আশায় সরকার বাংলাদেশ থেকে আরও বিপুল শ্রমিক আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে নতুন করে শ্রমিক নেওয়ার বিরোধিতা করে দেশটিতে কর্মরত বিদেশি শ্রমিক ও শরণার্থীদের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করছে এমন বেসরকারি সংগঠনের একটি তেনাগানিতা। সংগঠনটি বলেছে, নতুন করে শ্রমিক নেওয়ার পরিবর্তে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধতা দেওয়া উচিত।
দেশটিতে বিদেশি শ্রমিকদের কর ১ হাজার ২৫০ রিংগিত থেকে বাড়িয়ে আড়াই হাজার করার সরকারি প্রস্তাবের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করছে তারা।
এদিকে শুক্রবার রাতে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মালয়েশিয়ায় বৈধ হতে আগ্রহী, এমন দুই লাখেরও বেশি শ্রমিকের নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সে দেশের সরকার।
