নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁদাবাজির অভিযোগে র্যাবের একজন সদস্যসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র্যাব-১১ এর একটি টিম শনিবার দুপুরে এ অভিযান চালায়।
র্যাবের প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৫ মাস আগে সোনারগাঁয়ের আষাঢ়িয়াচর এলাকার মো. মহসিন দয়ালের (৩৫) বিরুদ্ধে র্যাব-১১তে অভিযোগ রয়েছে জানিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন র্যাবের কনস্টেবল হুমায়ূন কবির। তখন মহসিনকে জানানো হয়, বিষয়টি মীমাংসা করতে বিনিময়ে তাকে কিছু টাকা দিতে হবে। তা না হলে র্যাব-১১ এর সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যাবে বলে তাকে ভয় দেখানো হয়। মহসিন ভয় পেয়ে ঝামেলা এড়াতে কনস্টেবল মো. হুমায়ুন কবিরের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গত ৫ মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেয়। পরে গত ৯ ফেব্রুয়ারি মহসিন চাঁদাবাজির বিষয়টি বুঝতে পেরে র্যাব-১১কে জানায়।
শনিবার দুপুরে হুমায়ূন কবির রংপুর থেকে একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-৫৪-১২৯৩) ভাড়া করে দলবল নিয়ে সোনারগাঁয়ে আবারও মহসিনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা নিতে আসে। তবে এর আগেই মহসিন র্যাব-১১কে বিষয়টি জানায়।
আজ দুপুর ২টায় আগে থেকে ওৎপেতে থাকা র্যাব-১১ এর একটি দল এএসপি মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে টিম অভিযান পরিচালনা করে। টাকা লেনদেনের সময় কনস্টেবল মো. হুমায়ূনকে তার দলবলসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে মহসিন বাদী হয়ে চাঁদাবজির মামলা করেছেন এবং সেই মামলার সূত্র ধরে তাদের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হুমায়ূন কবির (৩০) রংপুরে অবস্থিত র্যাব-১৩ এ কনস্টেবল পদে কর্মরত। গ্রেপ্তারকৃত অপর ৪ জন হলেন মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার জামালদি গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে শাহিদা বেগম (৪৫), একই থানার ভাটেরচর গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে মো. আমজাদ (৩২), রংপুর জেলার কোতোয়ালি থানার জানকি ধাপের হাট গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মো. মাহবুবুল ইসলাম (৩০) ও একই জেলার বদরগঞ্জ থানার রামকৃষ্ণপুর বালাপাড়া গ্রামের মো. আ. শুক্কুরের ছেলে মো. হাসানুজ্জামান (২৪)।
মাহবুবুল ইসলাম মাইক্রোবাস চালক (ঢাকা মেট্টো-চ-৫৪-১২৯৩) ও মো. হাসানুজ্জামান ওই গাড়ির মালিক। আমজাদ হলো কনস্টেবল হুমায়ূন কবিরের সহযোগী। আর শাহিদা আমজাদের শাশুড়ি।
