জামাল জাহেদ, কর্ণফূলী : নির্বাচন কমিশনের ঘোষনা অনুযায়ী আগামী ২২শে মার্চ ৭৫২টি প্রথম দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।সারাদেশের মতো কর্নফুলি পটিয়ার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন পেতে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীরা। উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিয়ন ১নং চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সরকারদলীয়, বিএনপি ও স্বতন্ত্র হিসেবে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে এই ইউনিয়নে। তাদের মধ্যে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন চরপাথরঘাটা বৃহত্তর ইউনিয়ন এলাকার কৃতি সন্তান জনাব আলহাজ্ব মঈন উদ্দিন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করার কারনে ইউনিয়নের প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় তার ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে।অত্র ইউনিয়নের সাবেক সফল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে ও জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রেও তিনি সবার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন।
চরপাথরঘাটা ইউনিয়নে সরকার দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম আলোচনায় আসতেছে তারা হলেন, ইন্জিনিয়ার ইসলাম,সৈয়দ আহমদ,মারুফ,সেলিম হক,মাহবুব আলম।লোকেমুখে শুনা যায়,বর্তমান চেয়ারম্যান ছাবের আহমদ ও প্রার্থী হতে পারেন।
আওয়ামীলীগ,জাতীয়পার্টি,স্বতন্ত্র ও বিএনপি সমর্থিত একাধিক প্রার্থী থাকলেও চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন নানা সামাজিক কাজে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। আজিমপাড়া গ্রামের নেচার জানান,নিয়মিত তিনি জনগনের পাশে থেকে আপদে বিপদে সাহায্য সহযোগিতা করে আসতেছে। অত্র ইউনিয়নের একাধিক লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আলহাজ্ব মঈন উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সমাজকর্ম করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি সম্ভ্রান্ত পরিবারের একজন ক্লিন ইমেজের পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবীদ হিসেবে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সুখে-দু:খে তিনি সাথে রয়েছেন।
এছাড়া তার পরিবারের পুর্ব পুুরুষেরা দীর্ঘদিন এলাকার নেতৃত্বাধীন ছিলেন।মানুষের সাথে জনপ্রতিনিধি হয়ে সাহায্য সহযোগিতা করেছিলেন।জানা গেছে, আলহাজ্ব মঈন দীর্ঘদিন অত্র ইউনিয়ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এলাকার মানুষের জোর দাবির কারণে তিনি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে জনাব আলহাজ্ব মঈন আরো বলেন, এলাকার জনগন ও আমার প্রানের সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় আমি ইনশাল্লাহ নির্বাচনে জয়ী হবো।
আমি দলের ত্যাগী ও কঠিন সময় নির্যাতিত নিপীড়িত পরিবারের ছেলে,জনগনের উন্নয়নের জন্য মাঠ আকড়ে ধরেছি কোনদিন চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের মানুষের কষ্ট বিমুখ করিনি,যতটুকু পারি সাহায্য সহযোগিতায় হাত বাড়িয়েছি। তাই আমি শতভাগ নিশ্চিত দল থেকে মনোনয়ন আমিই পাবো। কারণ আমি দীর্ঘ সময় ধরে ইউনিয়নের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সুখে দুঃখে রয়েছি। আমি যদি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই মাদক, সন্ত্রাস, আইন শৃংখলা রক্ষা ও দূর্নীতিমুক্ত চরপাথরঘাটা ইউনিয়নকে আধুনিক মডেল ইউপি রুপে গড়ে তুলবো। সকলকে সাথে নিয়ে এই ইউনিয়নে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। তিনি পিছিয়ে পড়া অবহেলিত এই উপকূলীয় জনপদের অসচ্ছল, অসহায় জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে তাদের এগিয়ে নিতে তিনি বদ্ধ পরিকর। তার একক প্রচেষ্টায় ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহযোগীতা করে আসছেন।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান অনুদানের মাধ্যমে তাঁর লক্ষ পুরনে স্বনির্ভর সমাজ গঠনের জন্য অবদান রাখছে। প্রচার বিমুখ এ মানুষটি নিজের নাম প্রকাশ না করে আড়ালে থেকে নীরবে নিভৃর্তে কাজ করতে বেশি পছন্দ করেন। তিনি আরো বলেন, নিজের জন্য রাজনীতি নয় জনগনের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য রাজনীতি, দেশের উন্নয়নের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে আমি চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন বাসীর সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সেবা করতে চাই। আলহাজ্ব মঈন আরো বলেন, আমার সমাজ কর্মের পরিধি আরো বাড়াতে জনগনের ইচ্ছায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবো। জনগন আমাকে স্বতঃপূর্ত রায় দিয়ে জয়ী করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে।
অন্যদিকে আলহাজ্ব মঈন উদ্দিন এর সামাজিক জনহিতকর ও রাজনৈতিক পরিচয়ে জানা যায়,১৯৯৩ সালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ইউনিট লিডার ছিলেন,২০০৮ সালে ইউপি লিডার সিপিপি পটিয়া উপজেলায়,১৯৯৩ সালে কর্নফুলি খোয়াজ নগর গুরামিয়া জামে মসজিদে সহ সাঃসম্পাদক নির্বাচিত হন,১৯৯৩ সালে আনসার ভিডিপি ইউনিয়ন লিডার হন,১৯৯০সালে কে কে এস পি ক্লাব প্রতিষ্টা করে যুবসমাজকে মাদকমুক্ত পরিবেশে ফিরে আনেন,২০০৩ সালে ইউপি নির্বাচনে প্রথম মেম্বার হন,২০০৮ সালে দীর্ঘ ৪বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন,২০০৪ সালে আনজুমান মুফিদুল ইসলামে আজীবন সদস্য নির্বাচিত হন,বেওয়ারিশ লাশ দাফনের জন্য ৬গন্ডা কবরস্থানের জায়গার ব্যবস্থা করেন লল্ডন প্রবাসী চাচার কাছ থেকে,২০১১সালে ইউপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন,সামান্য ভোটে অকৃতকার্য হয়,বর্তমানে ৩য় বারের মতো খোয়াজনগর আজিম আলী সরকারী প্রাঃবিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন,বর্তমানে খোয়াজ নগর ব্যবসা সমিতি প্রধান উপদেষ্টা,চরপাথরঘাটা সাম্পান টেম্পু চালক সমিতির উপদেষ্টা সহ ইছানগর সদরঘাট সাঃচাঃসঃ উপদেষ্টা হন।
অন্যদিকে রাজনীতির মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দক্ষিণ জেলা যুবদলের বর্তমান সদস্য,কর্নফুলি থানা যুব দলে সহ সাংগঠনি সম্পাদক,ইউনিয়ন যুবদলের সহ সভাপতি ছিলেন। জনগনের প্রয়োজনে বিএনপি দল যদি মনোনয়ন দেয় তবে তিনি একক প্রার্থী হিসাবে মাঠে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান আমাদের প্রতিবেদককে।
