কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন ভোটে দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রার্থী রাজু আহমেদ খোকনের সমর্থকরা ভুরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম সড়ক অবরোধ করে দফায় দফায় মিছিল করে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আন্ধারীঝাড় বাজারে ভোট শেষে ঘটনার পর রাত ৯টা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি চলে।
কমিটির সদস্যরা জানায়, ২০১৩ সালের এপ্রিলের প্রথম দিকে আন্ধারীঝাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচিত সভাপতি ফজলুক হক মণ্ডল আগের কমিটির অনেকে বাদ দিয়ে কমিটি করলে ওই মাসের ২৬ তারিখে উপজেলা কমিটির সভাপতির বরাবরে কমিটি পুনর্গঠনের আবেদন জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে বাদপড়া সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠন করা হয়।
এবারে দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন হওয়ায় ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ফজলুল হক মণ্ডল ও ২নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি রাজু আহমেদ খোকন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্তে মঙ্গলবার কমিটির সদস্যদের ভোটে প্রার্থী নির্বাচন করার কথা। ভোট শুরু হলে সংশোধিত কমিটির সদস্যরা ভোট দিতে গেলে দেখেন ভোটার তালিকায় তাদের ভোট নেই। পরে এ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে হট্টগোল বাঁধে। ভোট শেষে ফজলুল ও খোকনের সমর্থকদের মধ্যে এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। রাত ৯টা পর্যন্ত খোকনের সমর্থকরা দফায় দফায় মিছিল করে।
ভোট বঞ্চিত রুহুল আমিন ও বাবুল হোসেন সরকার বলেন, ফজলুল মণ্ডলের বাবা আব্দুল খালেক মণ্ডল ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পিস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। রাজাকারের ছেলেকে আমরা নৌকা মার্কার প্রার্থী দেখতে চাই না।
৩নং ওয়ার্ড যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ইউনুছ আলী, ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আজকের ভোট কারচুপি হয়েছে। খোকনের যারা ভোটার তাদের ভোট দিতে দেয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজাকারের ছেলেকে মনোনয়ন দিবেন না আমরা আশা করি।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাজাহান সিরাজ মুঠোফোনে বলেন, ‘ওটা কিছু লোকের বোঝার ভুল। ফজলু মণ্ডলের জনসমর্থন বেশি। তিনি বেশি ভোট পেয়েছেন। এগুলো সব ঠিক হয়ে যাবে।’
