কুতুবজোমে ইউনিয়নে বিএনপির ঘাঁটিতে এগিয়ে আঃলীগের খোকন

0

জামাল জাহেদ, বিশেষ প্রতিবেদনঃ এবারে কুতুবজোমে ইউপি নির্বাচনে রাজনীতিতে গভীর সঙ্কটে পড়েছে বিএনপি। কুতুবজোমের মাটি বিএনপির ঘাঁটি’ বলে বিবেচিত হলেও পুর্বে বর্তমানে দলটি পড়েছে আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। এ থেকে উত্তরণে কোনো পথও দেখতে পাচ্ছে না নেতারা। কাকে বাদ দিয়ে কাকে ইউপি চেয়ারম্যান হিসাবে মনোনয়ন করবে। এ পরিস্থিতিতে জেলার শীর্ষ নেতারা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ফলে ইউপি নির্বাচনে অনেকটা হাত ধরেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনকে পদে বসিয়ে দিতে চলেছে বলে স্থানীয়ারা মতামত ব্যক্ত করে। কুতুবজোম ইউনিয়নে জাতীয়পার্টির বাবর জাতীয়পার্টি থেকে কিছুটা সরব হলেও নীরব রয়েছেন।ক্ষমতাসীন দলের নির্দেশে মামলা-হামলার কারণে নেতাদের আত্মগোপন, দলীয় গ্রুপিং, অঙ্গ সংগঠনগুলোতে পুতুল নেতৃত্ব বসানো, প্রকৃত রাজনীতিবিদদের হাতে নেতৃত্ব না থাকাসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত উপজেলা বিএনপি। মধ্যম সারির নেতাদের অভিযোগ, সরকারের নীলনকশার নির্বাচনে একদিকে নিজেদের প্রার্থীকে জোর করিয়ে পাস করানো হবে বলে আশংকা, অন্যদিকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মী, বিএনপিপন্থি বিভিন্ন পেশাজীবী ও সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও ‘একদিন সুদিন আসবে, গণতন্ত্র ফিরে আসবে’- এমন আশা নিয়ে বসে আছেন অনেকেই।

এ নিয়ে কুতুবজোমে ইউপি নির্বাচন ও দলীয় রাজনৈতিক অঙ্গণে সর্বত্রই চাউর হচ্ছে- কে হবেন ২২শে মার্চ নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান।শেষ পর্যন্ত বিপর্যস্ত উপজেলা বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কী? একের পর এক মাঠ পর্যায়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া বিএনপি সরকারি দলের পূর্ণশক্তির সঙ্গে মাঠের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান করতে পারবে কি-না এ নিয়ে খোদ দলের মধ্যেই চলছে পর্যালোচনা।কারন বর্তমানে কুতুবজোমের ৯টি ওর্য়াডের মানুষের মুখে মুখে সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন খোকনের নাম।এলাকার মুরুব্বী আবুল হাশেম জানান,ছেলেটা ব্যক্তিগতভাবে ভালো, তরুনের কাছে সে খুবই জনপ্রিয় ক্লিন ইমেজের কারনে।তাই দল নয় ব্যক্তিগত ভাবে সকলে থাকে পছন্দ করে। বিগত ৫ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ-হরতালের রাজনীতিতে মাঠে ছিল না জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এছাড়া দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মাঠে দেখেনি কর্মী-সমর্থকরা। ফলে দলের ভেতরে বাইরে শূন্যতা বিরাজ করছে। পরিণতিতে মাঠপর্যায়ে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচি পালন করার মত নেতাকর্মী পায়নি মহেশখালি ও কুতুবজোমের বিএনপি।

অন্যদিকে অনেকে কুতুবজোমের মাঠে ময়দানে বিভিন্ন সামাজিক কাজে খোকনকে কাছে পেয়েছে জনগন তা মনে করে এগিয়ে যাচ্ছে বলে ধারনা করেন। অপরদিকে,কুতুবজোম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৭বছরের পর তাদের দলের মনোনিত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অনেকটাই ফুরফুরে আমেজে রয়েছে। অনেকে মনে করেন খোকনের কারনে কুতুবজোমের রাজনৈতিক অঙ্গণে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার পদের দায়িত্ব নিজেদের আয়ত্বে রাখতে এবারে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অনেকটাই শক্ত অবস্থান করেছে,যোগ্য প্রার্থীর হিসাবে মোশাররফ হোসেন খোকনকে পেয়ে।

বিএনপি দলীয়সুত্রে জানা যায়,নির্বাচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানদের অনেকে বিতর্কিত হওয়ায়,তাদের কে সরিয়ে দেয়ার চিন্তা-ভাবনায় বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকে বিএনপি দল থেকে মনোনয়ন দিচ্ছেনা।তার পরির্বতে তার ভাতিজা যুবদল নেতা খোরশেদ আলমকে দল মনোনয়ন দিচ্ছে।যদিও জানা যায়,চেয়ারম্যান শফিউল আলম মনোনয়ন দাখিল করেছে বলে জানতে পারা যায়। বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত কুতুবজোমে এখন দখলে নিয়েছে আওয়ামী লীগ,চারদিকে খোকনের জয়গান।এদিকে কুতুবজোমের উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দু রহিম বিকম বলেন, ‘পুলিশের মামলা-হামলায় নেতাকর্মীরা স্বস্তিতে নেই।

অনেকেই এখন এসব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় পালিয়ে থাকছেন।তবে গণতন্ত্রের বিজয় একদিন হবেই।’আঃলীগের মনোনিত প্রার্থী জনাব মোশাররফ হোসেন খোকন বলেন,দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন,এবং যথাযথা মর্যাদা কুতুবজোমের জনগন অবশ্যই করবে ২২তারিখের নির্বাচনে।জনগনের জন্য আঃলীগের প্রার্থী হিসাবে উন্নয়ন ধরে রেখে বাবার সুনাম ধরে রাখতে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.