নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন সন্দীপনার সঙ্গীত, নাটক, আবৃত্তি, চারুকলা, নৃত্যকলা ও লোককলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ৩ দিন ব্যাপী মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচীর সমাপনী অনুষ্ঠান ২১ ফেব্র“য়ারী নগরীর দোস্ত বিল্ডিং চত্বরে সহস্রাধিক মানুষের স্বতস্ফুর্ত অংশ গ্রহণে ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতায় সম্পন্ন হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদীদে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচীর সূচনা করা হয়।
সকাল ৭ টায় ঐতিহাসিক দোস্ত বিল্ডিং চত্বরে সন্দীপনার একুশের মুক্ত মঞ্চে শিল্পীরা মহান শহীদানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে পরিবেশন করেন একুশের গান, আবৃত্তি ও পাঠ। সকাল ১০ টায় সন্দীপনার উপদেষ্টা বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী চ.বি. সিনেট সদস্য ড. মঞ্জুর উল আমিন এর সভাপতিত্বে সন্দীপনার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ভাষ্কর ডি.কে. দাশ (মামুন) এর পরিচালনায় “একুশ আমার চেতনার বহ্নিশিখা” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সন্দীপনা ঘোষিত একুশে স্মারক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- সি.এম.পি পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডল।
কর্মসূচীর প্রধান আলোচক ও উদ্বোধক ছিলেন- চ.বি সাবেক ডীন সমাজবিজ্ঞানী ড. গাজী সালেহ উদ্দিন ও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম উত্তর জেলার সভাপতি ড. মাহমুদ হাসান। সম্মানিত বিশেষ অতিথিবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- চসিক কমিশনার তারেক সোলেমান সেলিম, রাজনীতিবিদ সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, সন্দীপনার উপদেষ্টা এডভোকেট তপন কান্তি দাশ, বিশিষ্ট সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন, রাজনীতিবিদ আলী আহমদ নাজির, রাজনীতিবিদ আলী নেওয়াজ খান, কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন, সংগঠক সুযশময় চৌধুরী, রাজনীতিবিদ দীপংকর চৌধুরী কাজল, রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব শফিউল আলম সেফু, সাংবাদিক সমীরণ পাল, চলচ্চিত্র অভিনেতা হুজুতুল্লাহ হিমু, নাট্যকর্মী হাসান মুরাদ, নাট্যকর্মী নাজমুল আবেদীন অভি, সমাজসেবী মোঃ হাসান, সাংবাদিক হারুনুর রশিদ, আইটি এক্সপার্ট মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।
সকাল ১১টায় প্রতি বছরের ন্যায় প্রধান অতিথির কাছ থেকে একুশে স্মারক সম্মাননা গ্রহণ করেন- দেশ মাতৃকায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক রাষ্ট্রদূত ওসমান সরওয়ার (পক্ষে- মরনোত্তর), শিক্ষা ও গবেষণায় প্রফেসর ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়–য়া, শিল্পকলায় মিসেস রওশন আরা চৌধুরী, আইন পেশায় এডভোকেট মহরম মিয়া (মরনোত্তর), সমাজসেবায় নুরুল আলম, মুক্তিযুদ্ধে অবদান বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন দস্তিদার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নীল রতন দাশ গুপ্ত, সমাজ উন্নয়নে মাহবুবুল আলম, শিক্ষায় অবদানের জন্য কে.এম জয়নাল আবেদীন, সমাজ সেবায় মিজানুর রহমান মিজান, যুব উন্নয়নে রেজাউল করিম খন্দকার বুলবুল, ধর্মীয় শিক্ষায় শাহজাদা ইসমাইল আল আমেরী ও শ্রীমৎ উপেক্ষা পাল ভিক্ষু, সমাজসেবায় ভূমিকার জন্য মোঃ সোলাইমান হোসেন বাচ্চু।
আলোচনায় বক্তারা বলেন- ৫২ ছিল বাঙালীর স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রথম প্রেরণা। ঢাকার রাজপথে বুকের তাজা খুনে বাঙালী যে আলপনা এঁকেছিল তার সীমানা ছড়িয়েছে ৬৮ হাজার গ্রামকে বুকে ধারণ করা প্রতিটি নদী-খাল-মহাল সমৃদ্ধ ব্যাপক বাংলায়। স্বাধীনতার দীর্ঘ অর্ধশত বছর ছুঁই ছুঁই কালে আমরা দেখি একাত্তরের পরাজিত শক্তি, পশ্চিমা ডাল কুত্তার প্রেতাত্মা জামাত-শিবিরচক্র আবার নতুন করে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আজ সেই পরাজিত শক্তির দোসর যারা বাংলাদেশকে নতুন একটি অগণতান্ত্রিক সন্ত্রাসী পাকিস্তানের মত কায়েমী স্বার্থন্বেষী অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় তারা জানে সে আশা গুড়েবালি। স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের বিষদাঁত উপড়ে ফেলতে হবে। স্বাধীন বাংলায় আর হায়েনার নিঃশ্বাস ফেলতে দেওয়া যাবেনা। এই ভূমিকা দেশ প্রেমে উজ্জীবিত সংস্কৃতি কর্মী, স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষদের নিতে হবে। তা নাহলে সিরাজের পতনের মত এ সকল দূরভিসন্ধিকারীরা পুনরায় ঘসেটি বেগমের ভূমিকায় প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে অবতীর্ণ হয়ে বাঙালীর পায়ে গোলামী আরা পরাধীনতার জিঞ্জির পরিয়ে দিতে পারে।
বিকাল ৪টায় বৈকালিক অনুষ্ঠানমালায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সন্দীপনার সিনিয়র সহ-সভাপতি শিক্ষাবিদ বাবুল কান্ত দাশ। একুশ উদ্যাপন পরিষদের চেয়ারম্যান নাট্যজন মেজবাহ চৌধুরী’র পরিচালনায় আলোচনায় অংশ নেন- এডভোকেট সুখময় চক্রবর্তী, চ.বি অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু, সংগঠক প্রণব রাজ বড়–য়া, অধ্যক্ষ রওশন আরা ইউছুফ, সংগঠক সজল দাশ, কবিয়াল অশ্বিনী কুমার দাশ, প্রধান শিক্ষক তরণী সেন প্রমুখ। বক্তব্য রাখেন- সাংবাদিক আবছার উদ্দিন অলি, একুশ উদ্যাপন পরিষদের মোঃ হারুনুর রশিদ, মোঃ মোশাররফ হোসেন খান রুনু, মোঃ দিদার হোসেন, তাহেরা খাতুন, মোঃ রাশেদ, মোঃ শহীদুজ্জামান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে সঙ্গীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন- ওস্তাদ রতন কুমার রাহা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবৃত্তি শিল্পী গোলাম কিবরিয়া, শিল্পী মুসলিম আলী জনি, শিল্পী মৌসুমী দাশ, ছড়াকার তালুকদার হালিম, শিল্পী ডা: সঞ্জয় দাশ গুপ্ত, শিল্পী সমীর চন্দ্র সেন, নাট্যকর্মী এমরান হোসেন মিঠু, প্রকৌশলী সনজিত দে সঞ্জয়, নাট্যকর্মী জাহানারা পারুল, নাট্যকর্মী মোঃ রাশেদ, মোঃ দিদার হোসেন, প্রধান শিক্ষিকা মিনহাজুন্নিছা, উজ্জ্বল সিংহ, শিল্পী সজল নাথ, শিল্পী হানিফুল ইসলাম হানিফ, ডা: তপতী চক্রবর্তী, শিক্ষানবিশ ভাষ্কর রাসেল দত্ত রাজু, শিক্ষানবীস ভাষ্কর শিল্পী শিমু দেবী, কবি আসিফ ইকবাল, শাহিদা খানম শাহী, আজগর আলি, বাসুদেব রুদ্র, তরুন বিশ্বাস, রুমানা সুলতানা রুনা, বৃষ্টি চক্রবর্তী, ফৌজিয়া রেখা, রনজিত নাথ, মোঃ আজিম উদ্দিন প্রমুখ।
………….জিআর/ সিটিনিউজবিডি
