খেলাধুলা : তাঁর দিকে বরাবর তাকিয়ে থাকে বাংলাদেশ। ম্যাচের পর ম্যাচ অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন কত! অথচ কাল খেলা শেষে সেই সাকিব আল হাসান কাঠগড়ায়। রোহিত শর্মার যে ক্যাচটি ফেলেন তিনি, তাতেই তো ম্যাচের ভাগ্য বাংলাদেশের দিক থেকে ঝুঁকে পড়ে ভারতের দিকে। এ নিয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজার আক্ষেপ না থাকার কারণ নেই।
তাই বলে সতীর্থকে সমালোচনার উনুনে ঠেলে দিতে নারাজ তিনি। বরং সত্যিকার অধিনায়কের মতো কথার বর্ম দিয়ে সাকিবকে রক্ষা করলেন মাশরাফি, ‘ক্যাচ মিস খেলার অংশ। কেউ এটা নিয়ে কিছু করতে পারবে না। ম্যাচে ক্যাচ মিস হতেই পারে। আর মনে রাখতে হবে, সাকিব কিন্তু আমাদের দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার।’
তবে রোহিতের ওই মিস ক্যাচের মূল্য যে চড়াভাবে দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে, সেটি স্বীকার করেছেন তিনি। মাশরাফিও মেনে নিলেন, ওই সময় এর চেয়ে ঢের কম রান তাড়া করার ছবি আঁকছিলেন মনে মনে, ‘তখন যদি রোহিত শর্মা আউট হতো, তাহলে ১৩৫-৪০ আমরা টার্গেট তাড়া করতে পারতাম। কিন্তু ও ক্রিজে থাকায় মনে হচ্ছিল ১৫০ এর ওপরে রান হবে। এবং ওটাও আমরা চেজ করতে পারব।’ ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও অমন রানের কথা ভাবছিলেন বলে জানালেন ম্যাচ শেষে, ‘রোহিত তো পরে খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। এর আগে ভাবছিলাম, এই উইকেটে ১৪০ রান যথেষ্ট ভালো স্কোর।’ তবে রোহিতের ক্যাচ মিসের আগে ম্যাচে দাপটের সঙ্গেই ছিল বাংলাদেশ।
‘নতুন বল খুব ভালোভাবেই সুইং করছিল। উইকেটে ঘাস ছিল। ওটা সাহায্য করছিল’—বলে চার পেসার নিয়ে একাদশ সাজানোর পক্ষেও যুক্তি দেন মাশরাফি, ‘চার পেসার নিয়ে খেললেও আমরা খুব ভালোভাবে ম্যাচে ছিলাম। পেসাররা মোটামুটি ভালোই বল করছিল। এ রকম উইকেটে স্পিনারদের সাহায্য করবে না, সেটা আমরা জানতাম। তার পরও সাকিব ভালো বোলিং করেছে। রিয়াদও করেছে।
এটা আমাদের পরিকল্পনায় ছিল।’ তবে ১০/১১ ওভার শেষে শিশিরের কারণে বল গ্রিপ করায় সমস্যায় কথা বলেছেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে বরাবরের ধারালো মুস্তাফিজুর রহমানের কাল বিবর্ণ হয়ে থাকার কারণও বললেন সেটিকে, ‘শিশিরের কারণে বল ভিজে গিয়েছিল। যে কারণে মুস্তাফিজ বল গ্রিপ করতে পারিনি। এ জন্য স্লোয়ারগুলো ঠিকমতো করতে পারেনি।’ পরাজিত সেনাপতির মুখে এসব শোনায় অজুহাতের মতো। তবে সাকিব যদি রোহিতের ক্যাচটি ধরতে পারতেন, তাহলে কী ভিন্ন চেহারাই না হতে পারত মাশরাফির! হয়তো বিজয়ী সেনাপতির!
