১৮ বছর ভোট বন্ধ ভোলার তজুমদ্দিনের দুই ইউনিয়নে

0

ভোলা : দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ও মলংচড়া ইউপি নির্বাচন। আইনি জটিলতার কারণে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা না করায় এবারও ভোট দিতে পারবে না এই দুটি ইউনিয়নের প্রায় ১৯ হাজার ভোটার।

দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় কার্যক্রমে স্থবিরতা, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অনুপস্থিতি, মৃত্যুবরণ এবং উন্নয়ন বিলম্বিত হয়ে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে দুটি ইউনিয়ন পরিষদ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ৫ ইউপির মধ্যে তিনটিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও বাকী সোনাপুর ও মলংচড়া ইউনিয়নে আইনি জটিলতায় ভোট বন্ধ রয়েছে।

২০০৫ সালে সোনপুর ইউনিয়নের মেম্বার নুরে আলম, মো. সামছুউদ্দিন ও শাজাহানসহ ১৯ জন বাদী হয়ে সোনাপুর ও মলংচড়া ইউনিয়নের নদী ভাঙনের কারণে পুনঃসীমানা নির্ধারণের নিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে ওই মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে সোনাপুর ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় ৪টি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির অভিযোগে ভোট বন্ধ থাকার পর ২০০২ সালে পুনঃরায় ভোট গ্রহণের মাধ্যমে এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় হাফেজ হাসান মাসুদ বাবুল।

২০০৭ সাল হতে নির্বাচিত চেয়ারম্যানের এলাকায় অনুপস্থিতির কারণে ভারপ্রাপ্ত দিয়েই কাজ চলছে ইউপির। ২০০৯ সালে সংরক্ষিত (মহিলা) সদস্য মনোয়ারা বেগম ও ২০১৪ সালে হোসনে আরা বেগম মৃত্যু বরণ করেন। অধিকাংশ সদস্যও থাকেন এলাকার বাইরে। ফলে থমকে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম।

অন্যদিকে, ২০০৩ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে মলংচড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন নুরনবী সিকদার বাবুল। ২০০৫ সালে সোনাপুর ও মলংচড়া ইউনিয়নের নদী ভাঙনের কারণে পুনঃসীমানা নির্ধারণের নিয়ে একটি মামলা দায়ের হলে বর্তমানে তা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলার কারণে স্থগিত রয়েছে নির্বাচন।

অন্যদিকে, ইউপির ৮, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের নারী সদস্য আরজু আলম ঢাকায় এবং ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে ফেরদাউস বেগম সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়ায় দায়িত্ব পালন করছেন না। এছাড়াও ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল আলম মিন্টু থাকেন চরফ্যাশন উপজেলায়, ৩নং ওয়ার্ডের সেলিম উদ্দিন আর ৮নং ওয়ার্ডের বসির মেম্বার স্বপরিবারে থাকেন বোরহানউদ্দিন উপজেলায়। বাকীরাও নিয়মিত এলাকায় যান না। ফলে ইউপির বাসিন্দারাও বঞ্চিত হচ্ছেন নাগরিক সব অধিকার থেকে। এই দুটি ইউনিয়নের বসিন্দারা দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ।

উন্নয়নসহ সকল ধরনের সুযোগ সুবিধাও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। অকার্যকর পরিষদের কারণে স্থানীয়রা দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে নির্বাচনের দাবি জানান।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.