সাভার (ঢাকা) : আশুলিয়ার গোরাট এলাকায় ঝুটপল্লির আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। সকাল পৌনে ৬টায় আগুন লাগার পর ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
আগুনের তিব্রতা বেশি হওয়ায় তা নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। পরে সাভার ও ধামরাই থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেয়। পরে আরও ৮টি ইউনিটের প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিস। ততোক্ষণে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে ১৬টি ঝুটের গুডাউন। এছাড়া আগুন নিভাতে গিয়ে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন ঝুটশ্রমিক। তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান, বুধবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া সরকার মার্কেট এলাকার নাভানা গেটের পাশে এমরান হাজির ঝুটের গুডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ডিইডিজেড ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে প্রথমে ডিইডিজেডের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায়। পরে সাভার ও ধামরাই থেকে আরও ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। টানা সাড়ে ৩ ঘণ্টা চেষ্টার পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণে আসলেও আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি।
ঝুট ব্যবাসায়ী হাজি এমরান জানান, ভাই আমার সব শেষ হইয়া গেছে। এবার শীত বেশি না পড়ায় অনেক শীতের কাপড় স্টকে ছিল। তার চারটি গুডাউনে থাকা প্রায় কোটি টাকা মূল্যের কাপড়ের পুড়ে যাওয়ায় তিনি এখন পাগলপ্রায়।
খাইরুল ইসলাম নামে অপর এক গোডাউন মালিক জানান, আগুনে তাদের ঝুটপট্টিতে থাকা ১৫টি গোডাউনের মধ্যে অন্তত ১২টি গোডাউন ও গোডাউনের সমস্ত মালামাল পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় তাদের প্রায় ২ কোটি টাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রমনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মামুন মাহমুদ জানান, ঘটনাস্থলের এক কিলোমিটারের ভিতরে পানির উৎস না থাকায় তাদের আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। তবে তিনি তদন্ত ছাড়া আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

Comments are closed.