প্লট দুর্নীতি : ৭ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

ঢাকা : দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে একজনের প্লট অন্যের নামে বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের যুগ্ম-সচিবসহ ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তাদের তলব করে পৃথক নোটিশ দেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদক উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলী। তলবি নোটিশে তাদেরকে আগামী ১০ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। দুদক সূত্র বাংলামেইলকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিব আজাহারুল হকসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন- গৃহায়নের পরিচালক মো. শাহনেয়াজ চৌধুরী, উপ-পরিচালক এসএম টিপু সুলতান, উপ-পরিচালক আল মামুন মোর্শেদ, সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল এবং জাতীয় গৃহায়ন অধিদপ্তরের গৃহসংস্থান বিভাগের প্রাক্তন প্রধান প্রকৌশলী আমির আলী মন্ডল ও মো. মহিবুর রহমান।

দুদকে আসা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে মিরপুরের সম্প্রসারিত প্রকল্পের একটি প্লটের জন্য আবেদন করেন ততকালীন (বর্তমানে অবসর) চিনি শিল্প করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) নাসির উদ্দিন আহমদ। পরে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সেখানকার ২ কাঠা পরিমাণ একটি প্লট তার নামে বরাদ্দ করে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। এই প্লটটির বিপরীতে চার কিস্তিতে প্লটের মূল্যও গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজসে বরাদ্দকৃত প্লট মূল গ্রহিতাকে না দিয়ে অন্যের নামে বরাদ্দ দেয়। এতে ওইসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবৈধভাবে আর্থিক লাভবান হন। অপরদিকে দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে বঞ্চিত হচ্ছেন নাসির উদ্দিন আহমদ।

দুদক সূত্র জানায়, দুদকে আসা অভিযোগ আমলে নিয়ে যাচাই শেষে গত বছরের মাঝামাঝি বিষয়টি সম্পর্কে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। প্রথমে অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে জাহাঙ্গীর আলম দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অন্য শাখায় বদলি হয়ে যাওয়ায় অভিযোগটি নতুন করে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয় আরেক উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলীকে। অনুসন্ধানকালে তিনি   অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেন।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.