ঢাকা : ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ সারাদেশের আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সরকারী সীমানা নির্ধারণ কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার সচিবালয়ে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ ও নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাধীন আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আন্তঃজেলা সীমানা নির্ধারণে একটি স্বচ্ছ চিত্র দাঁড় করাতে হবে। অবশ্যই মানুষের দুর্ভোগ কমাতে হবে।’
শামসুর রহমান শরীফ জানান, প্রয়োজনে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের লোকজন আবারও সীমানা পিলার বসাতে যাবেন। তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকতা ও তাদের একান্ত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সরকার ও আইন জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার উড়িরচর এলাকার ১৯৫৪ সালের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে ৬০টি মৌজার সমন্বয়ে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ থানার আঞ্চলিক সীমানা ঘোষণা করা হয়। এই ৬০টি মৌজার মাধ্যমে ৩৬নং চরবালুয়া, ৩৪নং চর এলাহী, ৩৫নং চরলেংটা এবং ২৩ ও ২৪নং চরযাত্রা মৌজা অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এছাড়া নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১৯৩৬ সালে এবং সর্বশেষ ১৯৫৪ সালের সংশোধিত ম্যাপ অনুযায়ী ৩৬নং চরবালুয়া, ৩৪নং চরএলাহী, ৩৫নং চরলেংটা এবং ২৩ ও ২৪নং চরযাত্রা কোম্পানীগঞ্জ থানার অন্তর্গত। এ গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৪টি মৌজা কোম্পানীগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এভাবেই ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের জুরিসডিকশন লিস্ট সংশোধন করা হয়।
১৯৫৪ সালের সংশোধিত সীমানা মোতাবেক কোম্পানীগঞ্জ ও সন্দ্বীপ থানার সীমানা নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার সীমানা হিসেবে গণ্য হবে এবং সীমানা নির্ধারণের পর এক জেলার অধিবাসীদের জমি অন্য জেলাভুক্ত হলেও জমির মালিকানা অক্ষুণ্ণ থাকবে। জমির মালিকানায় কোনো হেরফের হবে না মর্মে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ভূমি সচিব মেছবাহ উল আলম, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ আব্দুল আহাদ, ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আবুয়াল হোসেন, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বদরে মুনির ফেরদৌস প্রমুখ।

Comments are closed.