কাসেমের ফাঁসি বহাল: চট্টগ্রামে গণজাগরণের আনন্দ মিছিল

চট্টগ্রাম : মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আলবদর বাহিনীর তৃতীয় শীর্ষনেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখায় বন্দরনগরীতে আনন্দ মিছিল করছে গণজাগরণ মঞ্চ।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর চেরাগী পাহাড় থেকে আনন্দ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিন করছে।

বিষয়টি  জানিয়েছেন চট্টগ্রামের গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক শরীফ চৌহান।

শরীফ চৌহান  বলেন, “মাতৃভূমিকে কলংকমুক্ত করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা যেন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশ সম্পূর্ণ রাজাকারমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবে গণজাগরণ মঞ্চ।”

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে দেশের এই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সংক্ষিপ্ত আকারে চূড়ান্ত এ রায় দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মূল হোতার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শহীদ কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনসহ ছয়জনকে হত্যা-গণহত্যার দায় (১১ নম্বর অভিযোগ) প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া সর্বোচ্চ দণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন আদালত।

ট্রাইব্যুনালে আটজনকে নির্যাতনের পর হত্যা ও মরদেহ গুম এবং ২৪ জনকে অপহরণের পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন নির্যাতনকেন্দ্রে আটকে রেখে নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী ১৪টি অভিযোগে অভিযুক্ত হন মীর কাসেম আলী।

এ ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালের রায়ে। বাকি ৪টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেননি প্রসিকিউশন।

১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি অর্থাৎ ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং ৪টি অর্থাৎ ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেননি বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়।

এর মধ্যে ১১ নম্বর অভিযোগে সর্বসম্মত ও ১২ নম্বর অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ফাঁসির রায় দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.