আবুল খায়ের গ্রুপ রাজস্ব ফাঁকিতে শীর্ষে

চট্টগ্রাম: শিশু খাদ্য তৈরির জন্য ২০১৪ সালের ২৭ জুন অস্ট্রেলিয়া থেকে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬০৮ কেজি কাঁচামাল আমদানির এলসি (০৪৩৯১৪০২০০০৭) খোলেন আবুল খায়ের গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের কনজ্যুমার প্রোডাক্টস লিমিটেড।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে চালানটি খালাস নিতে একই বছরের ১৮ আগস্ট আমদানিকারকের পক্ষে সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান বিল অফ এন্ট্রি (সি-৬৭৬২৫৪) দাখিল করে। এতে কাস্টমস প্রসিডিউর কোড ৪০০০-১৭৩ ব্যবহার করা হয়। ওই কোড অনুযায়ী পণ্যের শুল্কায়ন সম্পন্ন করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

পণ্য চালানটি আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি পুনরায় শুল্কায়ন (পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট) করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সেখানেই আমদানি পণ্যে গোঁজামিলের বিষয়টি ধরা পড়ে। আবুল খায়ের কনজ্যুমার প্রোডাক্টস লিমিডেট কেবল একটি চালানেই মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ৬৩ লাখ ১১ হাজার ২৭৩ টাকা ফাঁকি দিয়েছে।

কাস্টমসের তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব উদ্ধারে মাঠে নেমেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে দাবিনামা।

কেবল একটি বা দুটি চালান নয় ৭৪টি চালানে পণ্য আমদানি করে শত শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর অনন্যোপায় হয়ে বেশ কয়েকটি চালানের ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায়ও করেছে এই প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি ২৪টি চালানের বিপরীতে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮৮৯ টাকা রাজস্ব আদায়ে দাবিনামা জারি করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বাংলানিউজের অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, আবুল খায়ের গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে নিয়মিত হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে। ধরা পড়ার সংখ্যা খুবই কম। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিতে নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে এই প্রতিষ্ঠান।

কাস্টমসের গোয়েন্দা শাখার সহকারী কমিশনার মুকিতুল হাসান বাংলানিউজকে জানান, কাঁচামাল আমদানি করে নিজস্ব কারখানায় পণ্য উৎপাদন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এটিভি (অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট) সুবিধা পায়। তবে সরাসরি তৈরি পণ্য আমদানি করলে এটিভি আদায় করতে হয়।

তিনি জানান, আবুল খায়ের কনজ্যুমার প্রোডাক্টস লিমিটেড শিশু খাদ্য তৈরির কাঁচামাল ঘোষণা দিয়ে টিনজাত পণ্য নিয়ে আসে। যা সরাসরি বিক্রিযোগ্য। অথচ প্রতিষ্ঠানটি মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বিপুল পরিমান সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।

আবুল খায়ের কনজ্যুমার প্রোডক্টস লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর জারি করা দাবিনামায় উল্লেখ করা হয়, ‘বাণিজ্যিক আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র খুচরা ব্যবসায়ী কর্তৃক পণ্য সরবরাহের ওপর আরোপনীয় মূল্য সংযোজন কর আদায় বিধিমালা, ২০১২ এর বিধি-৭ অনুযায়ী নিবন্ধিত উৎপাদক বা সেবা প্রদানকারী কর্তৃক আমদানিকৃত উপকরণ এর মূলধনী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে অগ্রিম মূসক (এটিভি) আদায়যোগ্য নয়। কিন্তু আপনারা আমদানিকৃত গুঁড়োদুধ প্রস্তুতকৃত পণ্য (ফিনিশড গুডস) হিসেবে টিনজাত খুচরা মোড়কে এনেছেন। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন।’

জানা গেছে, কাস্টমসের গোয়েন্দা শাখার তদন্তে একটি চালানে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর ওই চালানটির বিপরীতে ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায় করা হয়। এরপর আবুল খায়ের গ্রুপ বিষয়টি নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বারস্থ হয়। কিন্তু এনবিআর কাস্টমসের পক্ষেই রায় দেয়। এরপর একই কোড ব্যবহার করে খালাস নেওয়া সব চালানের নথির তথ্য বের করা হয়।

মুকিতুল হাসান জানান, মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য খালাস নিয়েছে এমন ৭৪টা চালানের নথি পাওয়া যায়। এসব চালানের প্রত্যেকটির বিপরীতে দাবিনামা জারি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি চালানের অর্থ আদায় করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। আরও ২৪টি চালানের বিপরীতে ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায়ে চিঠি দিয়েছি। ক্রমান্বয়ে বাকি চালানেরও দাবিনামা জারি করা হবে।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.