পুরস্কার ঘোষণার পরও অপরাধীদের পরিচয় মিলছে না

0

পয়লা বৈশাখে নারী লাঞ্ছনার ঘটনার এক মাস পরে পুলিশের পুরস্কার ঘোষণার পরও অপরাধীদের পরিচয় মিলছে না। এসব অপরাধীর পরিচয় বা তাদের সম্পর্কে কোনো ধরনের তথ্য না পাওয়ার কারণে তাদের আটক করতে পারছে না পুলিশ।

 

বৈশাখের উৎসবের সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে ভিড়ের মধ্যে দুষ্কৃতকারী একদল যুবকের হাতে লাঞ্ছিত হন কয়েকজন নারী। বৈশাখের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য ওই সব এলাকায় বসানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা।

 

ঘটনার পর ওই সিসিটিভির ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয় নারী লাঞ্ছনার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আটজন অপরাধীকে। তবে শনাক্ত করা গেলেও ওই সব অপরাধীকে ধরতে বাদ সাধে তাদের পরিচয়। কারণ, ভিডিও ফুটেজে অপরাধীদের ছবি শনাক্ত করা গেলেও তাদের পরিচয় মেলেনি। ফলে ঘটনার এক মাস পার হলেও তাদের সম্পর্কে তথ্য না পাওয়ার কারণে তারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

এদিকে বর্ষবরণের দিনে টিএসসিতে নারী লাঞ্ছনার ঘটনার ২৫ দিন পরও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিবাদে গত ১০ মে ডিএমপির কার্যালয় ঘেরাও করতে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে ছাত্র ইউনিয়নসহ কয়েকটি প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন।

 

ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় আনিস নামে এক পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি নায়েক পদে কর্মরত ছিলেন।

 

অন্যদিকে ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা কীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এতগুলো ব্যারিকেড পার হয়ে মিন্টো রোডে মন্ত্রিপাড়ায় এসে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধের পাশাপাশি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য ও পুলিশের যানবাহনের ওপর হামলার সুযোগ পেল, সে বিষয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের দায়দায়িত্ব নিরূপণ করা। ওই ঘটনায় রমনা বিভাগ কর্তৃক কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল তা মূল্যায়ন, পুলিশের ওপর হামলার কারণে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পুলিশ কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ, যা নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় বিরূপ সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে, তার প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়।

 

অন্যদিকে নারী লাঞ্ছনার ঘটনার এক মাস পরও তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য না পাওয়ায় লাঞ্ছনাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের ধরিয়ে দিলে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয় পুলিশ।

 

গত ১৭ মে রাজধানীর পুলিশ সদর দফতরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। তিনি বলেন, পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারী লাঞ্ছনার ঘটনায় আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও দেখে পুলিশ তাদের শনাক্ত করেছে। শনাক্তকৃত এই আট নারী লাঞ্ছনাকারীকে ধরিয়ে দিলে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।
আইজিপি বলেন, গণমাধ্যমে বর্ষবরণে নারী লাঞ্ছনাকারীদের প্রকাশিত ছবি ছিল ঝাপসা। এই কারণে তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও দেখে পুলিশ এই আটজনকে শনাক্ত করেছে। দেশের গণমাধ্যমে এই আটজনের স্পষ্ট ছবি দেওয়া হবে। কেউ তাদের পরিচয় শনাক্ত করে ধরিয়ে দিতে পারলে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে এবং চাইলে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।

 

তবে ঘোষণার পরও শনাক্তকারী আটজনের বিষয়ে পুলিশের কাছে এখনো কেউই তথ্য দেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে।

 

এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপকমিশনার (ডিসি) এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, ‘পুরস্কার ঘোষণার পরেও তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত আসামিদের পরিচয় কিংবা তাদের অবস্থান সম্পর্কে ডিএমপি মিডিয়ায় কোনো তথ্য আসেনি।’

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.