চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ‘তারকা সন্ত্রাসী’ ইসমাইল হোসেন টেম্পুকে (২৩) তার দুই সহযোগিসহ গ্রেফতার করেছে বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশ। তাদের মাদকের আসর থেকে দুইশ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ মে) গভীর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের নগরীর শেরশাহ সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির পাহাড় থেকে গ্রেফতার করা হয়। একই রাতে বায়েজিদ বোস্তামি থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, টেম্পু আগে চান্দগাঁও থানা এলাকায় অবস্থান করে তার বাহিনী দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাত। এখন বায়েজিদে অবস্থান করে সন্ত্রাস, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে। নগরীতে তিনদিন ধরে যে বিশেষ অভিযান চলছে তাতে দুই সহযোগীসহ টেম্পু গ্রেফতার হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া টেম্পুর দুই সহযোগী হল, মো. শরীফ (২৮) এবং মো.ইশতিয়াক (২৬)।
শরীফ নগরীর পাহাড়তলী থানার একটি ছিনতাই মামলায় পাঁচ বছর সাজা খেটে ছয় মাস আগে বের হয়ে টেম্পুর বাহিনীতে যোগ দেয়।
ইশতিয়াক নগরীর পাঁচলাইশের উৎপল বড়ুয়া হত্যা মামলার আসামি। ওই মামলায় যাবজ্জীবন সাজা খেটে ছয় মাস আগে বের হয়ে ইশতিয়াকও টেম্পুর বাহিনীতে যোগ দেয়।
শরীফ-ইশতিয়াকসহ টেম্পুর বাহিনীর ১২-১৩ জন সদস্যের একটি টিম নগরীতে সিএনজি অটোরিকশাযোগে ছিনতাই করে বলে জানান ওসি মোহাম্মদ মহসিন।
এদিকে তারকা সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন প্রকাশ টেম্পুর বিরুদ্ধে নগরীর পাঁচলাইশ, বায়েজিদ ও চান্দগাঁও থানায় ২৪টি মামলা আছে। টেম্পু চান্দগাঁও থানার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং নগরীর ব্যবসায়ীদের কাছে মূর্তিমান আতংক বলে জানিয়েছেন ওসি।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ১১ এপ্রিল নগরীর চাঁন্দগাও থানার শমসেরপাড়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আহত অবস্থায় গ্রেফতার হয়েছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন টেম্পু। দেড় বছর কারাগারে থাকার পর গত ডিসেম্বরে টেম্পু জামিনে মুক্তি পায়। এরপর চান্দগাঁও থেকে বায়েজিদে গিয়ে আস্তানা গড়ে বিশাল বাহিনী সৃষ্টি করে টেম্পু। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় হচ্ছে ওই বাহিনীর মূল পেশা।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, টেম্পুর কাজ হচ্ছে ব্যবসায়ী-দোকানদারদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করা। বায়েজিদ ও চান্দগাঁও এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে তার মা খোদেজা বেগমকে পাঠায় টেম্পু। মা গিয়ে সেলফোনে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে টেম্পুর কথা বলিয়ে দেন। টেম্পু টাকার পরিমাণ বললে ওই ব্যবসায়ী তার মায়ের হাতে টাকা তুলে দেন। ভয়ে তারা কখনও এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেন না।
২০১৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর টেম্পুর ছোট ভাই সোহাগকেও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। টেম্পুসহ তিনজনকে রিমাণ্ডে এনে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

Comments are closed.