আন্তর্জাতিক : ইরাকের ফালুজা ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মূল ঘাঁটি রাকায় সরকারি বাহিনী ও তাদের সমর্থক পক্ষের যুগপৎ হামলা চলছে। আইএসের দখলে থাকা ফালুজা শহরে আটকা পড়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। যুদ্ধের ভয়ে গত শুক্রবার কয়েক শ লোক শহরটি ছেড়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে। এর প্রায় দ্বিগুণ মানুষ আটকা পড়েছে তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায়।
ফালুজার নিয়ন্ত্রণ নিতে ২২ ও ২৩ মে সেখানে বড় ধরনের হামলা চালায় ইরাকি বাহিনী। ইরাকের যে দুটি প্রধান শহর এখনো আইএসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ফালুজা তার একটি। অপরটি হলো মসুল। ফালুজায় এখন আইএসের মাত্র হাজার খানেক যোদ্ধা অবস্থান নিয়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপর দিকে বিপুলসংখ্যক ইরাকি সেনা ও মিত্র যোদ্ধা ফালুজা ঘিরে রেখেছে। তবে গতকাল শনিবার পর্যন্ত শহরের ভেতরে তারা প্রবেশ করতে পারেনি। ফালুজা আইএসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোর একটি। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে আইএস শহরটি দখল করে নেয়।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের ইরাকের পরিচালক নাসির মুফলাহি বলেন, দিনের পর দিন ফালুজার পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
ফালুজায় সরকারি বাহিনীর অভিযানের আগে শহরের বাসিন্দাদের নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার জন্য কোনো করিডর রাখার পরিকল্পনা করা হয়নি। এরপরও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অল্পসংখ্যক বেসামরিক লোক শহরটি ছেড়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে। এদের একটি বড় অংশ শুক্রবার পালাতে সক্ষম হয়।
পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল রায়েদ শাকির জাওয়াত বলেন, ‘আমাদের বাহিনী ৪৬০ জনকে শহর থেকে বের করে এনেছে। এদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।’
এদিকে সিরিয়ায় আইএসের ‘রাজধানী’ রাকাতেও তাদের ওপর চাপ বাড়ছে। কুর্দি-আরব যোদ্ধাদের একটি জোট শহরটি নিয়ন্ত্রণে নিতে অভিযান চালাচ্ছে। শহরটিতে এখনো আনুমানিক তিন লাখ লোক বাস করছে। শহরটি ছেড়ে পালাতে তাদের অনেকেই মরিয়া। আরবিএসএসের কর্মী হামুদ আল-মুসা বলেন, ‘এলাকার রাস্তাঘাটে প্রায় কাউকেই হাঁটতে দেখা যায় না। মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট, রাশিয়া বা সরকারি বাহিনীর বিমান হামলার ভয়ে লোকজন ভীতসন্ত্রস্ত।’মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, আলেপ্পো প্রদেশে আইএসের সহিংসতার কারণে তুরস্কের সঙ্গে সিরিয়ার সীমান্তে প্রায় এক লাখ লোক আটকা পড়েছে। আজাজ এলাকা থেকে সাংবাদিক মামুন খতিব এএফপিকে বলেছেন, তুরস্কের সীমান্ত ও মারিয়া এলাকার কাছে একটি সড়ক আইএসের যোদ্ধারা কেটে ফেলেছে। তিনি বলেন, সড়কটি কেটে ফেলায় মারিয়াতে বর্তমানে ১৫ হাজার লোক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

Comments are closed.