খেলাধুলা : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নতুন চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে তারকাবেষ্টিত বিরাট কোহলির ব্যাঙ্গালুরু রয়েল চ্যালেঞ্জার্সকে হারিয়েছে আট রানে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মুস্তাফিজের দলের সাত উইকেটে ২০৮ রানের জবাব দিতে নেমে কোহলিদের চালিকা শক্তি থেমে যায় আট উইকেটে পাক্কা ২০০ রানে। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে হারের নির্মম সাক্ষী হতে হলো কোহলিকে। ১৭ উইকেট নিয়ে আইপিএল মাতানো বাংলাদেশের গর্ব মুস্তাফিজ জিতে নিয়েছেন আসরের উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার।
খুবই সাদামাটা একটি দল হায়দরাবাদ। তারকা খেলোয়াড় বলতে ওয়ার্নার। আর হালের নতুন সেনসেশন মুস্তাফিজ নিজে। ক্যান্সারকে জয় করে আবার মাঠে ফিরে আসা যুবরাজ তো অতীতের ছায়ামাত্র। এর বাইরে যদি তারকা বলা যায়, তিনি হলেন শেখর ধাওয়ান। দলের বাকি খেলোয়াড়দের আর ক’জনেইবা চেনেন! সেই দলই কিনা জাদুর কাঠির পরশের মতোই মুস্তাফিজ পরশে আসরের সবচেয়ে আলোচিত দলে পরিণত হয়। তার চার ওভার হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তারকায় ঠাসা ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে ফাইনালেও ছিল সেই মুস্তাফিজ পরশ। একটি উইকেটের বিপরীতে রান দলের অন্যদের তুলনায় কিছুটা বেশিই দিয়েছেন ৯.২৫ গড়ে। ঠিক তখনই ওয়ার্নার মুস্তাফিজকে আক্রমণে নিয়ে আসেন। মুস্তাফিজও তার প্রতিদান দেন। দানব গেইলকে নড়াচড়াই করতে দেননি। কোহলিও নিজেকে সংযম করে রাখেন। ওভারে মাত্র চার রান দিয়ে দলে বোলারদের সাহস জোগান এই বলে যে ওদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। দ্বিতীয় ওভারে অবশ্য ১২ রান দেন। ডেথ ওভারে ১০ ও ১২ রান দিয়ে ওয়াটসনের উইকেটও তুলে নেন। তার শেষ ওভারে স্রান সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়ে দ্বিতীয় উইকেট নেয়া থেকে বঞ্চিত করেন। তবে তার আগে সেই ওভারেই একটি রান আউট ছিল। অথচ এই মুস্তাফিজ ফাইনালে খেলবেন কি না তা নিয়ে ছিল রাজ্যের সংশয়। সময় ঘনিয়ে আসে আর বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের টেনশন বাড়তে থাকে তার খেলা, না খেলা নিয়ে। অবশেষে সেরা একাদশে মুস্তাফিজের থাকা নিশ্চিত হওয়ার পর সবার টেনশন দূর হয়। যার সমাপ্তি ঘটে মুস্তাফিজের দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে। সঙ্গে বোনাস উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা। জয়তু মুস্তাফিজ।
মুস্তাফিজের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ চ্যাম্পিয়নসানরাইজার্সের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে দলপতি ওয়ার্নারের অবদানও আছে যথেষ্ট। মুস্তাফিজের নেতৃত্বে বোলিং আক্রমণ যতটা শক্তিশালী ছিল, সেখানে ব্যাটিংয়ে ভরসা ছিলেন শুধু ওয়ার্নার। নয় হাফ সেঞ্চুরিতে ৮৪৮ রান করে আছেন সবার ওপরে থাকা কোহলির (৯৭৩) পরেই। ফাইনালেও তিনি খেলেন ৩৮ বলে ৬৯ রানের চোখ ধাঁধানো ইনিংস। গেইল (৭৬) ও কোহলি (৫৪) ঝড়ে সেই ইনিংস পরে ম্লান হয়ে যেতে দেননি মুস্তাফিজের নেতৃত্বে বোলাররা। ২৩ উইকেট নিয়ে আসরের সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক ভুবনেশ্বর কুমার ফাইনালে কোনো উইকেট না পেলেও রান খরচায় ছিলেন সবচেয়ে বেশি কিপটে (৬.২৫)। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য হায়দরাবাদ ফাইনালে বিশেষভাবে মনে রাখবে ম্যাচসেরা কাটিংকেও। তার ১৫ বলে অপরাজিত ৩৯ রান, যেখানে শেষ ওভারে ছিল ২৪ রান আর সঙ্গে ৩৫ রানে দুই উইকেটও। জোগান ছিল যুবরাজের ২৩ বলে ৩৮ রানের ইনিংসও।

Comments are closed.