ঢাকা : দেশের বাহিরে বসে যাঁরা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে তাদের শাস্তি দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।
তিনি জানান, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে যা করা দরকার বাংলাদেশ তাই করবে। কোন মতেই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ ও জাতীয় সংসদের হুইপ শহীদুজ্জামান সরকারের পৃথক দুটি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ প্রধানমন্ত্রীর নিকট সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান সাবেক ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে তাকে দেশে এনে শাস্তির ব্যবস্থা করবেন কি না? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক অপরাধী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে এবং বাংলাদেশ সব সময় সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছে। এই অপরাধীদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, ওয়ারেন্ট রয়েছে তাদের ফিরিয়ে এনে সাজা দেয়া বাংলাদেশের কর্তব্য। কায়কোবাদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিশ্চই এ ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হবে তিনি কোথায় আছেন। আমাদের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ধরে নিয়ে এসে সাজা দিতে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
শেখ হাসিনা বলেন, সবসময় আমাদের একটা সন্ত্রাস বিরোধী ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ যাতে না থাকে ইতিমধ্যে আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। কোন মতেই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসকে আমরা প্রশ্রয় দেবো না বলে ইতিমধ্যেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাস দমনে সৌদি আরব একটা জোট করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে এবং প্রায় ৪০টি দেশ যুক্ত হওয়ার ফলে জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গোটা মুসলিম উম্মার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সুযোগে বাংলাদেশও আছে।
এই সফর বাংলাদেশ সৌদি আরব সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি সফরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা বিষয়ে সম্পর্কোন্নয়নে এক নতুন ও পূর্ণাঙ্গ ভিত্তি তৈরি হয়েছে। সৌদি সরকার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ স্বত:স্ফূর্তভাবে এই প্রথমবার বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের এ নতুন সম্পর্কের ফলে মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বলতর হবে বলে আশা করা যায়।

Comments are closed.