মেডিকেল কলেজে বই খুলে পরীক্ষার অভিযোগ

0

কক্সবাজার প্রতিনিধি :   গত ১৭ মে ছিল কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বায়ো-কেমিস্ট্রি বিষয়ের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা। কলেজ ভবনের লেকচার গ্যালারির ১ নম্বর হলে পরীক্ষা দিচ্ছিল প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী। তত্ত্বাবধায়ন করছিলেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. তৌহিদুল আলম। তার সঙ্গে ছিলেন একই বিষয়ের শিক্ষক নয়ন কান্তি পাল ও এনাটমি বিষয়ের শিক্ষক নোবেল বড়ুয়া। ওইদিন পরীক্ষাকেন্দ্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শক হিসেবে কেন্দ্র পরিদর্শন করতে আসেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার একেএম মাহফুজুল হক। তিনি পরীক্ষার কক্ষে অব্যবস্থাপনা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দেয়ায় তিনি কর্তব্যরত শিক্ষকদের অভিযুক্ত করেন। এ সময় তার সঙ্গে ড. তৌহিদুল আলমের বাকবিতণ্ডা হয় বলে জানান একই কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষক ডা. নয়ন কান্তি পাল।

প্রত্যক্ষদর্শী বহিঃপরিদর্শকের দায়ের করা এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্ত করেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত দল। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তর করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নেয়া হতে পারে।

এদিকে, অভিযোগ আছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের বায়ো-কেমিস্ট্রির সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল আলমের বিরুদ্ধে। তিনি সারামাস চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সামনে তার নিজস্ব মালিকানাধীন ‘লাইফ কেয়ার’ নামে একটি ক্লিনিক আছে। সেখানে তিন সময় দেন। মাসে ২/১ দিন তার কর্মস্থল কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে আসেন।

বায়ো-কেমিস্ট্রি অপেক্ষাকৃত জটিল বিষয় হওয়ায় এবং এ বিষয়ের ক্লাস না হওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে তারা অভিযোগও করেছে একাধিকবার। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আশ্বস্ত করেন কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. অরুপ দত্ত বাপ্পী। তিনি পরীক্ষার্থীদের ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ করে দেয়ার আশ্বাস দেন।
এদিকে, গত বুধবার রাতে তার মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ বিষয়ে অভিযোগকারী বহিঃপরিদর্শক মাহফুজুল হককে একাধিকবার ফোনে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.