ঢাকা : ঢাকা-চট্টগ্রাম ও জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেন জনগণের জন্য শেখ হাসিনা সরকারের ঈদুল ফিতরের উপহার বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ (২৬ জুন) রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মেট্রোরেলের ভূমি উন্নয়ন কাজ ও বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, আগামী সপ্তাহে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ-জয়দেবপুর চার লেন সড়কের উদ্বোধন করা হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জনগণের জন্য এটা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার।
মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বিআরটি ও কর্ণফুলী চার লেনের মতো মেগা প্রজেক্ট বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। তার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু নির্মাণের বাস্তবায়নই প্রমাণ করেছে যে, আমরা পারি। মেট্রোরেল ও বাস র্যাপিট ট্রানজিট বাংলাদেশে প্রথম। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিক থেকে ৬০ হাজার যাত্রী এবং গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) চালু হলে প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিক থেকে ২৫ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে।
প্রথম পর্যায়ে ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা তৃতীয় পর্যায় থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক চলাচল শুরু হবে। ২০২০ সালে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ শেষ হবে। মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য হবে ২০ কিলোমিটার। নির্মাণ ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকা প্রকল্প সাহায্য দিচ্ছে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং সরকারি অর্থায়ন ৫ হাজার ৩৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
অপরদিকে উন্নতমানের বাসভিত্তিক যানজটমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিআরটি সংযুক্ত হচ্ছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বিআরটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিআরটি রুটে থাকবে ২৫টি স্টেশন, নির্মাণ করা হবে ছয়টি ফ্লাইওভার। উত্তরা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার থাকবে এলিভেটেড (ওপর দিয়ে) বিআরটি লেন। ১৬ কিলোমিটার থাকবে সমতল বা এট গ্রেড। ১৮ মিটার দীর্ঘ ১০০টি আর্টিকুলেটেড বাস চলাচল করবে এ পথে। বাসগুলোয় ভাড়া আদায়ে থাকবে ইলেকট্রনিক স্মার্ট কার্ড।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং ঢাকা বিআরটি কোম্পানি লিমিটেড। এটি বাস্তবায়নে প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যার অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটি।

Comments are closed.