এদিকে অবরোধ স্থগিতের ঘোষনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবারো ছাত্রলীগের কর্মীরা ভিসির বাসভন অবরোধ করের ও বাসভবনের মূলফটকে তালা দেয়
সিটিনিউজবিডি : ঈদের ছুটিতে থাকা শান্ত ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫ বছর পূর্তির শোভাযাত্রা বের হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনের মল চত্বরে সকালের আনন্দময় পরিবেশ দুপুরেই বিক্ষোভপূর্ণ হয়ে উঠে। ভিসির গাড়ি ভাঙচুর, বাসভবনের গেটে তালা ও অবরোধের পর তার পদত্যাগে সময়সীমা বেঁধে দেয় ছাত্রলীগ। তাদের দাবির মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মরণিকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করায় এ বিক্ষোভের সূত্রপাত করে ছাত্রলীগ। দিনভর বিক্ষোভ চলাকালে দুপুরে প্রশাসনিক ভবনে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমানকে তার কক্ষে প্রায় এক ঘন্টা তালাবন্দি ও অবরুদ্ধ রাখে ছাত্রলীগ। জুমার নামাজের পর বিকাল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের গাড়ি ভাঙচুর ও তার বাসভবন অবরুদ্ধ করে তারা। এ আন্দোলনের মধ্যেই বিকালে সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও স্মরণিকার সদস্য সচিব সৈয়দ রেজাউর রহমানকে অব্যাহতি দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ছাত্রলীগ আন্দোলন স্থগিত করলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবারো বিক্ষোভে নামে এবং রাত আটটার মধ্যে আরেফিন সিদ্দিককে পদত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ভিসির বাসভবন ফের অবরোধ করে। এ সময় তারা জুতা প্রদর্শন করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেন।
বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসের প্রিন্স বলেন, আন্দোলন মূলতবি করে চলে গিয়েছিলাম কিন্তু পরে জানতে পেরেছি এর সঙ্গে ভিসি নিজেই জড়িত। এ কারণে আমরা আবার এসেছি। তিনি আরো বলেন, আমাদের এখন একটাই দাবি ভিসির পদত্যাগ। রাত আটটার মধ্যে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। যতক্ষণ ভিসি পদত্যাগ না করবেন ততক্ষণ আমরা আমরণ অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাব।
যেভাবে বিক্ষোভের সূত্রপাত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি স্মরণিকা প্রকাশ করে। সকাল ১১টার দিকে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলোচনা সভা শুরুর পর স্মরণিকাটি উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিরা হাতে পান। এই স্মরণিকায় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৯৫ বছর উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব রেজাউর রহমান ‘স্মৃতি অম্লান’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লেখেন। এই লেখায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল পরিচিতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনা প্রধান ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বিষয়টি নজরে এলে আলোচনা সভা চলাকালেই ছাত্রলীগের নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ওই স্মরণিকা বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে স্মরণিকা কমিটিও বাতিল ঘোষণা করেন। আলোচনা সভাও তখন স্থগিত হয়ে যায়। সভাশেষে দুপুর ১২টা থেকে পৌনে একটা পর্যন্ত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী রেজাউর রহমানকে তার কার্যালয়ে তালাবন্দি করে রাখে এবং স্মরণিকায় আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে রেজাউর রহমানকে তালামুক্ত করে বের করে নিয়ে যান।
স্মরণিকায় জিয়াউর রহমানকে প্রথম রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করার বিষয়ে সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘এটি ছাপার ভুল এবং সংশোধনযোগ্য’।
ভিসির গাড়ি ভাংচুর ও বিক্ষোভ
স্মরণিকায় জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি উল্লেখের প্রতিবাদে জুমার নামাজের পর মধুর ক্যানটিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তারা ভিসির বাসভবনের সামনে তার পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। বিকাল তিনটার দিকে বাসভবনে ঢোকার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। একপর্যায়ে তার গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়। তবে গাড়ির ভেতরে থাকা ভিসি অক্ষতই ছিলেন। এ সময় ভিসির দেহরক্ষী আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন নেতা-কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করে বিফল হন। পরবর্তীতে ভিসি গাড়ি নিয়ে বাসভবনে প্রবেশের পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাড়িটি ঘেরাও করে রাখে। এরপর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে অফিস আদেশ করা হয়। তখন ছাত্রলীগ নেতারা অবরোধ থেকে সরে গিয়ে ঘোষনা দেন, আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
এদিকে বিকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রেজাউরকে অব্যাহতি দেয়া প্রসঙ্গে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, স্মরণিকায় লেখাটি রেজাউর রহমানের নিজের লেখা। যেহেতু এটি ভারপ্রাপ্ত রেজস্ট্রার ও স্মরণিকা কমিটির সদস্য সচিব রেজাউর রহমানের নিজের নামের লেখা, তাই এর দায়-দায়িত্ব লেখককে বহন করতে হবে। এ কারণে রেজাউর রহমানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.