শাজনীন হত্যায় শহীদের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকা : শাজনীন তাসনিম রহমান হত্যা মামলায় শহীদুল ইসলাম শহীদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে চার আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। খালাস পাওয়া চারজন হলেন- বাড়ির সংস্কারকাজের দায়িত্বে নিয়োজিত ঠিকাদার সৈয়দ সাজ্জাদ মইনুদ্দিন হাসান, তার সহকারী বাদল, এস্তেমা খাতুন (মিনু) ও তার বোন পারভীন। মামলার অপর আসামি কাঠমিস্ত্রি শনিরাম মণ্ডলকে এর আগেই খালাস দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলায় শহীদ দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। এ জন্য আদালত তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। অপর চার আসামির বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের খালাস দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোবিন জানান, আপিল বিভাগ যাদের রায় দিয়েছে বর্তমানে তাদের পাঁচজনই কারাগারে আছেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ট্রান্সকম গ্রুপের কর্ণধার লতিফুর রহমানের মেয়ে স্কলাস্টিকা স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী শাজনীন তাসনিম রহমান ১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে গুলশানে নিজের বাসায় খুন হন। এরপর ২০০৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর শাজনীনকে ধর্ষণ ও খুনের পরিকল্পনা এবং সহযোগিতার দায়ে তাদের বাড়ির সংস্কারকাজের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা ঠিকাদার সৈয়দ সাজ্জাদ মইনুদ্দিন হাসানসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী রহমত উল্লাহ। আসামিদের ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য ওই বছরই তা হাইকোর্টে আসে। এর পরই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিপক্ষ। শুনানি শেষে ২০০৬ সালের ১০ জুলাই মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে ফাঁসির আদেশ পাওয়া আসামি শনিরাম মণ্ডল খালাস পান।

এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করনে আসামিপক্ষ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত একজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে ওই রায় দেন।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.