সিটিনিউজবিডিঃ আইনমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় গতকাল সোমবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইন বিভাগের প্রভাষক মো. শিবলী ইসলামের মন্তব্য ‘জঙ্গিবাদ বিস্তারে সহায়ক’ বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।
গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ জুলাই নিজের ফেসবুকে একটি মন্তব্য করেন শিক্ষক শিবলী ইসলাম। সেটি আইন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হলে তারা ২৫ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব তৈয়বুল হাসানের স্বাক্ষর রয়েছে। চিঠিতে বলা হয় বিষয়টি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। মন্ত্রী কোন প্রেক্ষাপটে কী বক্তব্য দিয়েছেন, সে সম্পর্কে শিবলী ইসলাম কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ করেননি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘ফেসবুকে একজন শিক্ষকের এ ধরনের পোস্ট প্রকাশ করা জঙ্গিবাদ বিস্তারে সহায়ক এবং রাষ্ট্রের প্রতি হুমকিস্বরূপ। ইচ্ছাকৃতভাবে এরূপ মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করায় তা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৭ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
গতকালের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ মিজানউদ্দিন কোনো কথা বলতে রাজি হননি। সিন্ডিকেটের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সভায় শিক্ষক শিবলী ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষক শিবলী ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।
