অনলাইন ডেক্স : একজন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকে যদি বর্তমানে প্রশ্ন করা হয় যে তিনি তার পরবর্তী স্মার্টফোনে কি পরিবর্তন চান তবে সম্ভবত সে শক্তিশালী ব্যাটারি ক্যাপাসিটিই চাইবে! প্রযুক্তি বাজারে এ পর্যন্ত যতগুলো স্মার্টফোন আমরা দেখেছি সেগুলোতে শক্তিশালী প্রসেসর, দ্রুতগতির র্যাম, চমৎকার জিপিইউ ও রম এবং প্রায় ডিএসএলআর কোয়ালিটির ক্যামেরা থাকলেও লং-লাস্টিং ব্যাটারি ইউনিট নেই। তাই, ব্যবহারকারীদের এই চাওয়াটা একদমই অমূলক কিছু নয়। যাই হোক, আশা করছি আগামী বছরে আমরা যারা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা আছি তাদের এই ইচ্ছেটাও পূরণ হয়ে যাবে; অর্থাৎ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসা ব্যাটারি প্রযুক্তিটি সম্ভবত পরিবর্তিত হতে যাচ্ছে চমৎকার কিছুতে!
SolidEnergy Szstem এর প্রতিষ্ঠাতা Qichao Hu-এর কাছে এমনই একটি সমাধান আছে বলেই সম্প্রতি এমআইটি নিউজকে দেয়া এক তথ্যে তিনি জানিয়েছেন। ৪ বছর আগে গড়ে ওঠা এই ফার্মটি সম্প্রতি এমন একটি রিচার্জেবল লিথিয়াম মেটাল ব্যাটারি তৈরি করেছে যা আমাদের নিত্যব্যবহার্য গেজেটগুলোতে থাকা ব্যাটারির আকারের হওয়া সত্ত্বেও প্রায় দ্বিগুণ ক্ষমতা ধারণ করতে সক্ষম। বর্তমানে যে ব্যাটারি প্রযুক্তি আমরা ব্যবহার করছি তাতে গ্রাফাইট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই ব্যাটারি অ্যানোডটিকে যদি SolidEnergy ফার্মটির আলট্রা-থিন মেটাল ম্যাটারিয়ালের সাথে পরিবর্ত ন করা হয় তবে সেই ব্যাটারিটি থেকে প্রায় দ্বিগুণ ঘনত্বের এনার্জি ধারণ করা সম্ভব বলেই প্রতিষ্ঠানটি জানায়।
এমআইটি নিউজকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী এই প্রযুক্তিটি দু’ভাবে ব্যবহার করা সম্ভব!
বর্তমানে যে বড় আকারের ব্যাটারিগুলো আছে সেগুলোকে তাদের শক্তির পরিমাণ বজায় রেখে প্রায় অর্ধেক করে ফেলা, অথবা ছোট আকারের ব্যাটারিতে ব্যবহার করে ব্যাটারির আকার বজায় রেখে সেই ব্যাটারিগুলোর ক্ষমতা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা।
এই প্রযুক্তিটির আরও একটি চমৎকার দিক হচ্ছে, এটি ব্যবহার করার জন্য বর্তমানের যে ব্যাটারি অবকাঠামো আছে সেটিই যথেষ্ট। এর ফলে নতুন কোন অবকাঠামো তৈরি করার জন্য আলাদা গবেষণা, সময় বা অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে না।
আশা করা হচ্ছে চমৎকার এই প্রযুক্তিটি আমরা ২০১৭ সালের দিকে প্রায় সব স্মার্টফোন এবং পরিধানযোগ্য ডিভাইসগুলোতে দেখতে পাব এবং ২০১৮ সালের দিকে এই প্রযুক্তিটি ইলেক্ট্রিক গাড়িগুলোতে ব্যবহার করা হবে।
তথ্যসূত্র : পিসিম্যাগ, এনগ্যাজেট, দি ভার্জ
