বোয়ালখালীতে ভান্ডালজুরী খালের ভাঙনে বিলীন শতাধিক পরিবার

0

বাবর মুনাফ : বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরন্দীপ ইউনিয়নের জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রাম। কর্ণফুলির তীরবর্তী এ গ্রামের পাহাড়ের কোল ঘেষে বয়ে যাওয়া সর্বনাশা ভান্ডালজুরী খালের অব্যাহত ভাঙ্গনে বসত ভিটে হারিয়েছে প্রায় শতাধিক পরিবার।

প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেঙ্গে নিয়ে যায় ঘর বাড়ি। তাদের আর্তনাদ শোনার যেন কেউ নেই এমনটিই জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তারা জানায়, গত কয়েক বছর ধরে এ ভাঙন লেগেই আছে। শুষ্ক মৌসুমে কিছুটা কম ভাঙলেও বর্ষা আসলেই ভাঙন আতঙ্কে থাকে গ্রামবাসী। প্রবল বৃষ্টিতে নামে পাহাড়ি ঢল।
এ নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটায় খাল পাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বারবার ভাঙন প্রতিরোধে প্রতিকার চেয়েও কোনো ফল পায়নি গ্রামবাসী।
পৈতৃক ভিটেবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব আবদুল গফুর, মাওলানা আবদুল কাদের, আবদুল হক, নুরুল হক, মো. নাছের, মো. হাছান, কালা মিয়া, ননা বড়ুয়া, কল্যাণ বড়ুয়া, বদন বড়ুয়া, অসীম বড়ুয়া, সুধীর জলদাস, মতি জলদাস, অধীর জলদাস, তপন বড়ুয়া, মামুন বড়ুয়াসহ অনেকের বাড়িভিটা খালের ভাঙনে বিলিন হয়ে গেছে। মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে পরিবারগুলো আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
তাদের বোবাকান্না আর হৃদয়ের আর্তনাদ এমনটিই জানান দেয়। বছরের পর বছর খালের ভাঙনে আমাদের পৈতৃক বসত বাড়ি হারিয়ে নি:স্ব রিক্ত হয়ে গেলাম। কোথায় গিয়ে দাঁড়াব, কে দিবে আশ্রয়? নিত্য প্রশ্ন এখন সর্বহারা খাল পাড়ের বাসিন্দাদের মুখে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার লোভে অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়া খাল পাড়ের মানুষরা ইতিমধ্যে অনেকে বাস্তুহারা হয়েছে। প্রতিদিন কয়েকটি ড্রেজারের মাধ্যমে কর্ণফুলী তীরবর্তী এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করার ফলে এ ভাঙ্গন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। অথচ প্রশাসন দেখেও দেখছে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর মেম্বার বলেন, ভান্ডালজুড়ি খাল আর কর্ণফুলির ভাঙনের ফলে অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরী পদক্ষেপ না নিলে এক সময় যাযাবরে পরিণত হবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়াম্যান মো. মোকারম বলেন, বিগত সময়ে ড. হাছান মাহমুদ এমপি মহোদয়ের সহযোগীতায় জলবায়ু অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে জ্যৈষ্ঠপুরা বড়ুয়া পাড়া ও জেলে পাড়ায় কর্ণফুলির ভাঙন রোধে ব্লক দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন ভান্ডালজুড়ি খালের ভাঙ্গন রোধে এক হাজার মিটার ব্লক বসানোর জন্য আলাদাভাবে ৫ কোটি টাকার বরাদ্দ মন্ত্রণালয়ের কাছে চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ব্লক বসানোর কাজ শুরু করা হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.