সিটিনিউজবিডি : যশোরের ভবদহ অঞ্চলের মানুষের ঈদ আনন্দ ভেসে গেছে বানের পানিতে। চোখের লোনা পানিতে এবার কাটবে ঈদুল আজহা। ঘরবাড়ি, ফসল, মাছের ঘের হারিয়ে রাস্তার পাশে কিংবা আশ্রয় কেন্দে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তারা বাড়ি ফেরার জন্য অধীর অপেক্ষায় রয়েছে। তবে কবে নাগাদ বাস্তুভিটায় ফিরতে পারবে সেটা নিশ্চিত নয়। তাই ঈদের আনন্দ নেই তাদের মাঝে। দুই বেলা খাবার জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কেশবপুর, মনিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলার তিন লক্ষাধিক বানভাসি মানুষ চরম সংকটে দিন পার করছেন। বানভাসি মানুষের এবারের ঈদ আনন্দ ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম ও হাসিনা খাতুন বলেন, ‘আমাদের আবার ঈদ আছে নাকি। রাস্তায় আছি। কবে বাড়ি ফেরব তা বুঝতিছি না। রাস্তায় ঈদ করতি হবে।’ ঈদের কোনো কেনাকাটা করতে পারেননি তারা। কেশবপুরের মধ্যকুল এলাকার মশিয়ার রহমান জানান, হাবাসপোল পুলেরমাথা মসজিদের সামনে প্রতি বছর অন্তত ১০টি ছাগল ও ৫টি গরু কোরবানি দেয়া হয়। এবার ২-৩টি ছাগল ছাড়া কোরবানি হবে বলে মনে হচ্ছে না। এখনও মসজিদ এলাকায় পানি থই থই করছে।
কেশবপুর উপজেলা সদরের কসমেটিকস বিক্রেতা সদানন্দ দে বলেন, ঈদ সমাগত হলেও ক্রেতা নেই। বেচাকেনা হচ্ছে না বললেই চলে।
কেশবপুর উপজেলা সদরের রুমা বস্ত্র সম্ভারের স্বত্বাধিকারী কাজী মিজানুর রহমান বলেন, বানভাসি মানুষ অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঈদের আনন্দ নেই মানুষের মাঝে। তাই কেনাকাটাও করছে না কেউ। অন্য বছর ঈদের আগে এ সময় ব্যাপক কেনাকাট হলেও এবারের চিত্র ভিন্ন।
মনিরামপুরে বানভাসির ৩০ হাজার পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে অন্তত ২০ হাজার পরিবারের ৭০ হাজার মানুষ ঈদের আগে বাড়ি ফিরতে পারছে না। তাদের রাস্তায় টঙ ঘর কিংবা আশ্রয় কেন্দ্রে ঈদ করতে হবে। মনিরামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার পরিবার উপজেলার ৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়ে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে। ঈদুল আজহা আসন্ন তারপরও বানভাসিদের মাঝে আনন্দের লেশমাত্র নেই। দু’বেলা-দু’মুঠো না হোক তাদের চোখে-মুখে এখন কোনোরকমে বেঁচে থাকার আকুতি।
রাস্তায় টঙ ঘরে আশ্রয় নেয়া হাসাডাঙ্গা গ্রামের রোকেয়া খাতুন বলেন, তাদের মতো গরিবের আবার ঈদ। বাড়ির কাঁচা ঘরটি ধসে পড়েছে, এখনও তার বাড়িতে কোমর পানি। এবার ঈদ রাস্তার টঙ ঘরেই করতে হবে। বন্যাকবলিত গ্রামগুলোর মধ্যে গরিব-গৃহস্থ পরিবারের কোনো বিভাজন নেই। বন্যাকবলিত গ্রামের সব পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত। কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য থাকলেও এসব গ্রামের অবস্থাসম্পন্ন বন্যাকবলিত মানুষ নিজেরাই পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টের মধ্যে আছেন।
মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বলেন, তার এলাকায় সামান্য পানি কমলেও ঈদের আগে বানভাসি মানুষ বাড়ি-ঘরে ফিরতে পারবে না বলে মনে করেন তিনি।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে বানভাসি প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি চাল দেয়া হবে।
ভবদহ অঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ নেই। তারা বাড়ি ফিরতে ব্যাকুল। কবে নাগাদ বাড়ি ফিরবে এখনও নিশ্চিত নয়।
