ব্যক্তিত্বের বিকাশ বা দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কি কি প্রয়োজন ?

0

সিটিনিউজবিডি :   অনেকে জীবনের আসল অর্থ খুঁজে পাওয়ার জন্য কোথা থেকে শুরু করবেন তা বুঝতে পারেন না। একটি প্রক্রিয়ার মাঝে বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মিস হয় আপনার। এমন নানা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে মানুষ নিজেকে বুঝতে পারে।

ব্যক্তিত্বের বিকাশ বা দক্ষতা বৃদ্ধি বা নিজেকে চেনা- যাই বলেন না কেন, এসব কাজ দৈহিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটায়। আর তাই বিভিন্ন উপায়ে এসব প্রক্রিয়া ক্রিয়াশীল রাখতে হয়। এখানে জেনে নিন এমনই ১৪টি উপায় যা ব্যক্তিত্বের উৎকর্ষতার জন্যে জরুরি।

১. প্রথমে নিজেকে জানার চেষ্টা করুন। পছন্দ-অপছন্দের বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট হোন। জীবনের প্রতি আপনার দৃষ্টিকোণ কেমন এবং একে কিভাবে দেখেন, তা চিন্তা করুন। কোন বিষয় আপনাকে নাড়া দেয় তা জানুন। বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিত্বের প্রতিফলনে এসব বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

২. দারুণ ব্যক্তিত্বের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। এখানে মানুষের ভেতরের সৌন্দর্যের কথা বলা হচ্ছে। দয়াশীলতা, সহানুভূতি, সাহস ইত্যাদি সুন্দর গুণাবলী মানুষের আসল পরিচয়। এদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নানা অভিজ্ঞতা আপনার ভেতরটা আরো বেশি সুন্দর করে তুলবে।

৩. বাজে সঙ্গে ত্যাগ করুন। এখানে সেই সব মানুষদের কথা বলা হচ্ছে যারা আপনাকে ক্রমশ নিচের দিকে নিয়ে যাবে। এ ধরনের মানুষ আপনার ছোটবেলার সঙ্গী থেকে শুরু করে পরিবারের কেউ হতে পারে।

৪. প্রতিদিন যে কোনো তিনটি নতুন এবং ইতিবাচক গুণের চর্চা করুন।

৫. সোশাল মিডিয়ায় যা দেখছেন তার সঙ্গে নিজের তুলনা করবেন না। অন্যের ভালো কিছু দেখে যা অনুসরণ করা উত্তম। নিজের মধ্যে নানা কাজের ফিল্টার বসাতে পারেন। কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় সাধারণত মানুষ নিজের সবচেয়ে ভালোটাই তুলে ধরতে চায়। আর সোশাল মিডিয়ায় মানুষের নিজের খারাপটার সঙ্গে অন্যের ভালোটার তুলনা করার প্রবণতা থাকে। এতে নিজের প্রতি বাজে ধারণার সৃষ্টি হয়।

৬. ব্লগ বা জার্নাল বা অন্য যে কোনো স্থানে নিয়মিত লেখা-লেখির চেষ্টা করুন। এ কাজ আপনার মননশীলতার বিকাশ ঘটাবে।

৭. নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হওয়াটা বেশ ভালো বিষয়। এতে নতুন সুযোগ, নতুন সংস্কৃতি, নতুন অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ থাকে। এটি ক্রমেই আপনার অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করবে।

৮. খুঁটিনাটি অনেক কিছুর প্রতি আকৃষ্ট আমরা। বিভিন্ন জিনিস আজীবন রেখে দেই নিজের কাছে। যে সব বিষয় নিজের মাঝে ধারণ করবেন তা বেছে নিন। প্রতিটি জিনিসকে অর্থবহ করে তুলুন। ভবিষ্যতের জন্যেও এ ধরনের জিনিসের তালিকা ঠিক করে রাখুন।

৯. আবেগ নানাভাবে নাড়া দেয় আপনাকে। একটি সিনেমার করুণ কাহিনী দেখে আপনি কাঁদেন। এগুলো মিথ্যা এবং বানানো কাহিনী বোঝার পরও আবেগ সামাল দিতে পারেন না। কিন্তু নাটকীয় রিয়েলিটি শো আপনাকে কি দেয়? একটি ভবন বা কক্ষের সব মানুষ ঝগড়া করছে, প্রেম করছে বা নানা কাজ করে বেড়াচ্ছে। এটি আপনাকে কি ধরনের অনুভূতি দিতে পারে? মূলত বানানো একটি অনুষ্ঠানকে সত্যিকার বিষয় বলে চালানো এবং তাতে আবেগ জড়িয়ে যাওয়া জীবনের প্লেগ বলে বিবেচিত হয়।

১০. প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। প্রকৃতি আপনার মনে বিশালতা দেবে। এর মাধ্যমে জীবনের নানা কানাগলি থেকে মুক্তি পাবেন।

১১. নিয়মিত পড়ুন। বহু বছর ধরে মানুষ পড়ার মাধ্যমে তার মেধা ও মননশীলতার বিকাল ঘটিয়েছে। যেকোনো বিষয়ে পড়াশোনা করুন। এ ছাড়া পছন্দের বিষয় নিয়েও জ্ঞানার্জন করতে পারেন।

১২. সেন্স অব হিউমার জীবনের অতি প্রয়োজনীয় অংশ। বড় হলেও কিছু শিশুসুলভ রসবোধ গড়ে তুলুন। রসবোধ আপনার মুহূর্তের সময়কে সুন্দর ও উপভোগ্য করে দিতে পারে।

১৩. একটি শখের বিষয় থাকা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন সম্ভব। এ বিষয়টি আপনাকে জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবেন। পছন্দের কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে এবং এ নিয়ে আলোচনায় দক্ষ করে তুলবে আপনাকে। কাজের প্রতি ভালোবাসা জন্মে যদি একটি শখ মনের মধ্যে ধারণ করেন।

১৪. প্রিয় মানুষের একটি দিন সুন্দর করে দিন। এর জন্যে বড় আয়োজনের দরকার নেই। একটি সুন্দর কথা বা মনের মতো একটি উপহারই যথেষ্ট। এর মাধ্যমে সম্পর্ককে জোরদার করা প্রয়াসের সঙ্গে দানশীলতার চর্চাও ঘটবে। দেখবেন, এতে মনের মাঝে কি দীর্ঘমেয়াদি তৃপ্তি কাজ করে।

সূত্র : হাফিংটন পোস্

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.