মো: সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি প্রতিনিধি : ভারতীয় উজানের পানিতে ডুবে গেছে রাঙামাটির পর্যটক আকর্ষনের অন্যতম স্থাপনা পর্যটনের ঝুলন্ত সেতুটি। ফলে এখন আর সেখানে পর্যটকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এই পর্যটন স্থানটি।
শহরে কোন ঝড়বৃষ্টি না থাকলেও রবিবার বিকাল থেকেই আকস্মিকভাবে বাড়তে শুরু করে কাপ্তাই হ্রদের পানি। সীমান্তবর্তী মিজোরাম রাজ্যে থেকে বয়ে আসা পানির চাপেই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রীজটি তলিয়ে গেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। পানি বৃদ্ধির কারণে সেতুর উপর দিয়ে পর্যটক চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে পর্যটন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে আকস্মিকভাবে সেতুটি তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা। দুরদুরান্ত থেকে বেড়াতে আসা অনেকেই নিজেদের হতাশার কথা জানিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসা সবুজ বলেন, আমি ঈদের ছুটিতে রাঙামাটি বেড়াতে এসেছি। তবে এসে দেখি ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে ডুবে গেছে। আসলে আমি অনেক হতাশ, যে আশায় আসলাম সে আসা পূর্ণ হলো না।
চট্টগ্রাম রাউজান থেকে বেড়াতে আসা কাজল আহম্মেদ বলেন, আমি বন্ধুদের সাথে রাঙামাটি ঝুলন্ত সেতুতে বেড়াতে এসেছি। মনে করেছি ঝুলন্ত সেতুতে কিছুটা ঝুলতে পারবো। তবে এসে দেখি সেতুটি পানির নিচে। আমাদের এত কষ্ট করে আসাটা বিফলে গেলো।
রাঙামাটির স্থানীয় তরুণ ইকবাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সেতু প্রতি বছরই কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেলে ডুবে যায়। এই প্রসঙ্গে পর্যটন করর্পোরেশনের কর্তৃপক্ষরা বার বার সেতু উন্নয়ন কর্মকান্ড করার আসা দিলেও এর কোন রুপ কাজ আমরা এখনো দেখতে পায় নি।
তিনি আরো বলেন, ঝুলন্ত সেতু হচ্ছে রাঙামাটির একটি মডেল। এই সেতু দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে প্রতি বছরই মানুষ ছুটে আসে। যার ফলে আমাদের রাঙামাটি মানুষের অর্থনৈতিক সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা হয়। তাই আমরা স্থানীয়রা পর্যটন কর্তৃপক্ষকে আহ্বান করবো অতিদ্রুত এই সেতু উন্নয়নে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।
রাঙামাটি পর্যটন ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ঝুলন্ত সেতুটি কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি হওয়ার কারণে ডুবে গেছে। তাই আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই সেতু এলাকায় পর্যটক প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। পর্যটন কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, শীঘ্রই পানি কমবে এবং সংস্কার শেষে সেতু চালু করা সম্ভব হবে।
