জামাল জাহেদ কক্সবাজারঃ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এমএলএসএস (পিয়ন) নাজিম উদ্দিন মেডিকেল অফিসারের অনুপস্থিতে নিজেকে মেডিকেল অফিসার (চিকিৎসক) পরিচয় দিয়ে জটিল ও কঠিন রোগীদের ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার ভুল চিকিৎসার কারণে জীবন মৃত্যুর ক্ষন গণনা করছে অনেকেই। গত ৭জুন এধরণের একটি ঘটনার পর রোগীর আত্বীয় স্বজন ও স্থানীয়রা নাজিম উদ্দিনকে মারধর করেছে।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ও চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তার দপ্তরে অভিযোগের পাহাড় পড়েছে। এসব অন্যায় অনিয়মের পর ওই এমএলএসএস বহায় তবিয়াতে থাকায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।জানাগেছে, চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড ঢেমুশিয়াপাড়া এলাকার গিয়াস উদ্দিন মিন্টুর স্ত্রী আনিছা বেগম (৩৫) পেটে ব্যথা বুমি ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হলে তাকে গত ৭জুন সকাল ১০টায় স্থানীয় বদরখালী ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসে। হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা: ছোটন কান্তি চৌধুরী ছুটিতে থাকায় এবং মেডিকেল সহকারি ডা: তামিমুল হাসান কক্সবাজারে সরকারি ঔষুধ পত্রের জন্য যাওয়ায় তাদের স্থলে এমএলএসএস নাজিম উদ্দিন নিজেকে মেডিকেল অফিসার পরিচয় দিয়ে ওই রোগীকে চিকিৎসা করেন। এসময় তাকে ভুল চিকিৎসা করলে অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে চকরিয়া থানা রাস্তার মাথাস্থ সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
একইভাবে মহেশাখালী উপজেলার উত্তর ঝাপুয়া এলাকার মো: রিদুয়ানের পুত্র রোকন (৮) জ্বর,সর্দি-কাশি রোগে ভোগলে তাকেও বদরখালী উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসে। তাকেও ওই এমএলএসএস নাজিম উদ্দিন নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা করান। ছোট শিশু রোকনকে এজিন ২৫০মি:লি: একটি করে দিনে ২বার ৭দিন, অথচ: দিনে একটি করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ফাস্ট ৫০০মি:লি ট্যাবলেট ১টি করে দিনে ৩বার খাওয়ার কথা বলেন, অথচ নিয়ম রয়েছে অর্ধেক করে দিনে ৩বার সহ আরো বেশ কয়েকটি ঔষুধ শিশুটির জন্য লিখেন। মহিলা রোগীর অবস্থার অবনতি হলে ভুয়া চিকিৎসক টের পেয়ে ওই এমএলএসএসকে স্থানীয়রা মারধর করেছে। উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এমএলএসএস নাজিম উদ্দিন চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড নতুনপাড়া এলাকার আমির হামজার পুত্র বলে জানাগেছে।চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা আলহাজ্ব ডা: মো:আবদুস সালাম জানান, মেডিকেল অফিসার পরিচয় দিয়ে ভুল চিকিৎসা সহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগ তিনি সরে জমিনে তদন্তও করেছেন। তার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে।কক্সবাজারের সিভিল সার্জন মো: কমর উদ্দিন জানান, তিনি এমএলএসএস নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সম্প্রতি মেডিকেল অফিসার পরিচয় দিয়ে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পাননি।
