মোঃ সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি : পার্বত্য অঞ্চলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি জাতিসত্তা বসবাস করে আসছে বহু বছর ধরে। তাদের রয়েছে নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এইবার বাংলাদেশ সরকার তাদের নিজ ভাষায় শিক্ষা প্রদানের জন্য প্রাক-প্রাথমিক ক্লাস চালু করার উদ্যোগ গ্রহন করেছে। সরকারের এই উদ্যোকে স্বাগত জানিয়েছে রাঙামাটিতে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিসত্তার জনগণ।
এই প্রসঙ্গে রাঙামাটি সদর উপজেলায় রানী দয়াময়ী সরকারী প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজিয়া সুলতানা বলেন, প্রাক-প্রাথমিক জন্য আমাদের বিদ্যালয়ে দুইজন শিক্ষক রয়েছে। সহকারি একজন শিক্ষক আগের থেকে এই দায়িত্ব পালন করে আসছে এইবার শুধু মাত্র এই ক্লাসের জন্য একজন শিক্ষক দেওয়া হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিকে আমাদের শিক্ষার্থী আছে ৭৫ জন।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য এলাকায় অনেক জাতি গোষ্ঠি বসবাস করে। তাই তাদের নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষাটা অনেকটা প্রয়োজন। তাদের নিজ ভাষায় শিক্ষা পেলে তারা তাদের ভাষাকে ধরে রাখতে পারবে। তাই সরকার যে উদ্যোগ গ্রহন করেছে তা পার্বত্য এলাকার জন্য অনেক ভালো একটি উদ্যোগ। আমরা এর সাধুবাদ জানাই। শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহন করা হলে একজন শিক্ষক দ্বারা যে কোন জাতির মাতৃভাষায় পাঠদান করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কাঠাঁলতলি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম বলেন, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আমাদের স্কুলে একজন শিক্ষক রয়েছে এবং শিক্ষার্থী রয়েছে ৯৬ জন। শিক্ষার্থী বেশি হওয়ার কারণে আরো শিক্ষকের আশা করি। এছাড়া নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষার্থী পড়ালেখা করতে পারলে, তাদের শিখতে ও পড়তে আরো সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরকারের যুগউপযোগি এই উদ্যোগে জন্য তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানান।
স্বর্ণটিলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজির আহম্মদ তালুকদার বলেন, আমাদের স্কুলে প্রাক-প্রাথমিক এর জন্য একজন শিক্ষক সরকারি ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত রয়েছে এছাড়া আগের থেকে একজন সহকারি শিক্ষক এই দায়িত্ব পালন করে আসছে। আমাদের স্কুলে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থী রয়েছে ৪০ জন। তবে অউপজাতি শিক্ষার্থী বেশি এবং যে শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছে তিনিও অউপজাতি, তাই কোন প্রকার সমস্যা হবে না বলে তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, প্রাক-প্রাথমিকের জন্য শিক্ষাদান করতে গেলে শিক্ষকদের প্রশিক্ষনের প্রয়োজন। কারণ তাদেরকে সঠিক ভাবে প্রশিক্ষণ দিতে পারলে তারা প্রাক-প্রাথমিক ক্লাস নিতে পারবে।
রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, সরকার এই প্রাক-প্রাথমিকের জন্য নিরালস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের এই পার্বত্য এলাকায় বিভিন্ন জাতিসত্বার লোক বাস করে। তাদের নিজ ভাষায় এই শিক্ষা দেওয়া হবে। কমলমতি শিশুদের জন্য নিজ ভাষায় শিক্ষা গ্রহন করতে পারাটা তাদের ভবিষৎ’র জন্য উপকারি হবে বলে তিনি মন্তব্য করে।
তিনি জানান, প্রাথমিক ভাবে ৫টি জাতিকে নিজ ভাষায় এই শিক্ষা দেওয়া হবে। এর মধ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সার্দ্রি (ওরাও) দেরকে প্রাথমিক ভাবে নিজ ভাষায় এই শিক্ষা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে রাঙামাটিতে যে জাতি গোষ্ঠিগুলো বসবাস করে তাদেরকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, রাঙামাটি জেলায় সরকারি মোট ৬১৬টি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে, যার মধ্যে ৩৯৩টি সরকারি প্রাইমারি স্কুলে প্রাক-প্রাথমিক’র জন্য শিক্ষক পদ সৃজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৩ জন শিক্ষক নিয়োগ প্রাপ্ত রয়েছে আর ৭০টি সহকারি শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। রাঙামাটিতে প্রাক-প্রাথমিক’র বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি শিক্ষার্থী রয়েছে মোট ৯,৯৬২ জন। তাদের জন্য বই এর চাহিদা মন্ত্রাণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং ২০১৭ সালের শিক্ষাবর্ষে এই পাঠ বই এসে পৌঁছাবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, এই ৫টি জাতি ছাড়া পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত অন্য জাতিসত্বার জন্য পাঠদানের বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি আশা করি এই সমস্যাও সমাধান করা সম্ভব হবে।
