দিলীপ তালুকদার : সরকারের কড়া নজরদারি থাকলেও কতিপয় অসাধু সরকারি কর্মকর্তারাই রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট পেতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রোহিঙ্গারা যাতে পাসপোর্ট না পায় সরকারি কঠোর নজরদারি রয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, পুলিশের সহযোগীতায় রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট পেয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, স্থানীয় দালাল, পুলিশ, পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মিলে গঠন করেছে একটি পাসপোর্ট সিন্ডিকেট। প্রতি পাসপোর্ট হাতে পেতে খরচ পড়ে ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী পাসপোর্ট পেতে মরিয়া। সেক্ষেত্রে তারা প্রতি পাসপোর্ট পেতে লাখ টাকারও বেশী খরচ করতে রাজি।
সূত্র জানায়, কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির মিলে পুরো চট্টগ্রামে প্রায় ৫লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ও নগরীতে এদের বসবাস দিনদিন বাড়ছে। তারা কোথাও রোহিঙ্গা পরিচয় দেন না। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দেয়। স্থানীয় দালালের মাধ্যমে তারা প্রথমে চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরের কাছ থেকে নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে। অর্থের বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্রও পেয়ে যায়। বিশেষ করে পাসপোর্ট অফিসের দালালরা জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয়তার সনদ টাকার বিনিময়ে অতি সহজে জোগাড় করে দেয়।
আর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পুলিশী বেরিফিকেশনও পেয়ে যায় অতিসহজে। যেখানে বাংলাদেশী একজনের পাসপোর্ট বানাতে পুলিশী তদন্তের ছাড়পত্র পেতে হিমসিম খেতে হয় সেখানে এ সমস্ত রোহিঙ্গারা টাকার বিনিময়ে অতি সহজেই পেয়ে যায় পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন। পাসপোর্ট ফরমের সাথে যা যা তথ্য উপাত্ত দরকার সবই পাসপোর্ট অফিসের দালালরা সরবরাহ করে দেয়। যার ফলে পাসপোর্ট অফিসের পরিচালকদের করার কিছুই থাকে না। সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এলাকার থানা থেকে দেবার নিয়ম থাকলেও দালালরা সিটি এসবি বা জেলা এসবি অফিস থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা করে দেয়।
সূত্র জানায়, যে কোন উপায়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে চলে যায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। বিশেষ করে তারা ওমরা হজের দিকে ঝুকে পড়ে বেশী। ওমরাহ্ ভিসা নিয়ে তারা আর ফেরৎ আসে না। বিভিন্ন ট্যুরিষ্ট ভিসা ও লেবার ভিসা নিয়েও তারা মধ্যপ্রাচ্যে গমন করে। সেখানে গিয়ে তারা এমন কোন কুকাম নাই করে না। বিশেষ করে নারী ব্যবসা, মদ, জুয়া, দালালী, খুন ধর্ষন, ছিনতাইকারী, চিটিংবাজী সবকিছুতে তারা সিদ্ধহস্থ। তারা বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে এমস্থ বেআইনি কাজ করছে।
আর দোষ পড়ছে বাংলাদেশীদের উপর। পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তখন তারা বাংলাদেশী হিসেবে পরিগনিত হয়। বদনাম হয় বাংলাদেশের। যার কারনে বাংলাদেশের ওয়ার্ক পারমিট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েতে যে সমস্থ অপরাধমূলক কর্মকান্ডগুলো বাংলাদেশীরা করে থাকে তার মধ্যে ৯৫ভাগ হলো এই রোহিঙ্গা। যার দায় বহন করছে বাংলাদেশীরা। যার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত দেশ গুলো বাংলাদেশের ভিসা পারমিট বন্ধ রেখেছে অনেক বছর ধরে।
