মো: সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি : পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১ ও তার সংশোধনী আইন ২০১৬ তড়িগড়ি করে জাতীয় সংসদে পাস করার প্রতিবাদে এবং বান্দরবানের বাঙ্গালী নেতা আতিকুর রহমানের মুক্তির দাবিতে আগামী ১৩ অক্টোবর ও ১৬ অক্টোবর পাহাড়ে হরতাল ডেকেছে পাঁচ বাঙ্গালী সংগঠন। রবিবার ঢাকায় এক জরুরি সভা শেষে এই কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। ১৩ তারিখ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা এবং ১৬ অক্টোবর রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ৪৮ ঘন্টা হরতাল চলবে বলে জানানো হয়েছে।
রবিবার রাতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে পাঁচ সংগঠনের পক্ষে এডভোকেট আলম খান সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচীর কথা জানানো হয়েছে।
পাঁচ বাঙ্গালী সংগঠনের আহবায়ক, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় এতে আরো উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য সমধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কামাল, পার্বত্য গণ পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, পার্বত্য গণ পরিষদের মহাসচিব এডভোকেট মোহাম্মদ আলম খান, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহম্মেদ রাজু, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাব্বির আহমেদ, সাধারন সম্পাদক সরোয়ার জাহান খান,পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফছার হোসেন রনি, সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মুন্না তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম খান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সরকার গত ০৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্রগ্রাম ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০১৬ পাস করায় পাঁচ বাঙ্গালী সংগঠন নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, এই বিতর্কিত আইন পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালী এবং উপজাতীয়দের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে, ইতোমধ্যে দ্বন্ধ সংঘাতের সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
তাই এই বিতর্কিত আইন শীঘ্রই বাতিল এবং বান্দরবানের পাঁচ সংগঠনের শীর্ষ নেতা, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান মুক্তির দাবিতে তিন পার্বত্য জেলায় বিক্ষোভ মিছিল, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরন এবং সর্বত্র কালো পতাকা উত্তোলন, ১৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা এবং ১৬ অক্টোবর রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ৪৮ ঘন্টা হরতাল।
৫ সংগঠনের আহ্বায়ক আলকাচ আল মামুন জানিয়েছেন, আমরা এতোদিন ধৈর্য্য ধরেছিলাম, আমাদের বিশ্বাস ছিলো সরকার আমাদের আবেগ অনুভূতিকে বিবেচনায় নিবে, কিন্তু আমাদের প্রত্যাশার প্রতি সরকার ন্যুনতম শ্রদ্ধাও দেখালো না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা কঠোর কর্মসূচীর দিকেই যেতে হচ্ছে। দুর্গাপূজার কারণে আমরা তাৎক্ষনিক কর্মসূচী দেইনি।
