চালের আমাদনি বেড়েই চলেছে..

0

 সিটিনিউজবিডি  :     চালের আমাদনি ঠেকাতে গত মে মাসে চাল আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে সরকার। কিন্তু ওই মাসে ঋণপত্র খোলার পরিমাণ না কমলেও আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিষ্পত্তির হার বেড়ে গেছে। অথচ বিগত বোরো মওসুমে বাম্পার ফলনে স্থানীয় বাজারে ধান বেচে খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। তাই স্থানীয় দর ঠিক রেখে কৃষকের হাতে ন্যায্যমূল্য তুলে দিতে চাল রপ্তানি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

দেশে ধানের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও কমছে না চাল আমদানি। এমনকি আমদানি শুল্ক বাড়িয়েও কাজ হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরে প্রথম ১০ মাসে চাল আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৬৫ শতাংশ ও নিষ্পত্তির বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ।

আমদানি সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় চালের দাম কম হলেও বেশ ভালো দামেই বিক্রি হচ্ছে আমদানি করা চাল। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা চালের খুচরা বাজার মূল্য কেজি প্রতি ৩০ টাকা ৫৬ পয়সা থেকে ৩৫ টাকা৬২ পয়সা। যেখানে দেশের বাজারে স্থানীয় মোটা চালের পাইকারি মূল্য বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ৩০ থেকে ৩২ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চাল আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে প্রায় ৫২ কোটি ৫৬ লাখ মার্কিন ডলারের এবং নিষ্পতি হয়েছে ৪৮ কোটি ২৬ লাখ ডলারের ঋণপত্র। পূর্ববর্তী ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে চাল আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছিল ৩১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের এবং নিষ্পতি হয়েছে ২৮ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের ঋণপত্র। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে ঋণপত্র খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৬৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি বেড়েছে ৬৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

অথচ বাংলাদেশ এখন ধান উৎপাদনে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশ। ৪৩ বছরে ধান উৎপাদন বেড়েছে অন্তত তিনগুণ। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার বোরো মৌসুমে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ পর্যন্ত যে ফলন দেখা গেছে তাতে খুব সহজেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত বোরো মওসুমেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদিত হয়েছিল।

গত ১ মে থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত সরকারিভাবে মোট বোরো চাল সংগ্রহ করা হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ১৯৮ মেট্রিক টন।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, এ বছর বোরোতে ২ কোটি ৯০ লাখ টন ধান উৎপাদিত হবে যা বাংলাদেশে ধানের উৎপাদনের একটি নতুন রেকর্ড।

ধানের এই বাম্পার উৎপাদন ও অব্যাহত আমদানির জন্য স্থানীয় বাজারে চালের দর কমে আসে। আড়তদাররা জানিয়েছেন, এক বছরের ব্যবধানে চালের দর কেজিপ্রতি প্রায় ৭ টাকা কমেছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দর পর্যালোচনা করেও এ সত্যতা পাওয়া গেছে।

চালের এ দরপতনের কারণে সাধারণ মানুষের সুবিধা হলেও বিপদে পড়েছে কৃষক। এবার এক মণ ধানের দর ৫৫০ টাকার বেশি উঠছে না। অথচ একই পরিমাণ ধান ফলাতে খরচ পড়েছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা।

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অনেক সংসদ সদস্যই কৃষকদের সঠিক মূল্য না পাওয়ার কথা স্বীকার করছেন। এমপি মোস্তফা লৎফুল্লাহ বলেন, ‘আমরা যখন চাল সংগ্রহ করি ঠিক তখনই তা আর কোন কৃষকের হাতে থাকে না। তখন ধান চলে যায় চাতাল মালিকদের হাতে। ফলে কৃষকদের কোন লাভই হয় না। কৃষকদের এত উৎসাহ দিয়ে চাষ করিয়ে আমরা তাদের যথাযথ মূল্য দিতে পারি না। এর চেয়ে কষ্টের আর কী আছে!’

উল্লেখ্য, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানিকৃত প্রতি মেট্রিক টন ‍চালের দাম পড়ছে ৩৫৫ থেকে ৪১৫ ডলার। অবশ্য চলতি অর্থবছরেই সরকার শ্রীলঙ্কায় ৫০ হাজার টন চাল রপ্তানি করেছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.